অভিভাবকশূন্য শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট এখন স্থবির : মোহাম্মদ আলীকে পেতে চান সংশ্লিষ্টরা — all-banglanews
সোমবার, ২২ এপ্রিল, ২০১৯
হোম / ক্যাম্পাস / অভিভাবকশূন্য শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট এখন স্থবির : মোহাম্মদ আলীকে পেতে চান সংশ্লিষ্টরা

অভিভাবকশূন্য শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট এখন স্থবির : মোহাম্মদ আলীকে পেতে চান সংশ্লিষ্টরা

অভিভাবকশূন্য শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট ও অবসর সুবিধা বোর্ড এখন স্থবির : মোহাম্মদ আলীকে পেতে চান সংশ্লিষ্টরা
অভিভাবকশূন্য শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট ও অবসর সুবিধা বোর্ড এখন স্থবির : মোহাম্মদ আলীকে পেতে চান সংশ্লিষ্টরা

গত ১৩ জানুয়ারি থেকে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী অবসর সুবিধা বোর্ড এবং বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট অভিভাবকশূন্য। বিধান অনুসারে চলতি দায়িত্ব দেয়ারও সুযোগ না থাকায় প্রতিষ্ঠান দুটির কার্যক্রম এখন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। জানা যায়, অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ দুটি প্রতিষ্ঠানের সদস্য সচিবের পদটি বর্তমানে শূন্য থাকায় সারাদেশের বেসরকারি শিক্ষক ও কর্মচারীরা মারাত্মক দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। নতুন শিক্ষামন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর কাছে তাদের দাবী, অনতিবিলম্বে এই দুটি শুন্যপদ পুরন করা হোক। এক্ষেত্রে তারা শিক্ষক নেতা অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলী চৌধুরী মানিকসহ বেশ কয়েক জনের নাম প্রস্তাব করছেন। তবে তাদের মধ্যে অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলীকেই সবাই যোগ্য মনে করছেন। কেননা তিনি পরপর ২ মেয়াদে কল্যাণ ট্রাষ্টের সদস্য ও ১ মেয়াদে অবসর সুবিধা বোর্ডেরও সদস্য ছিলেন। তখন তিনি অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের সমস্যা সমাধানে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। গত বছরও এ দুটি প্রতিষ্ঠানে সদস্য সচিব নিয়োগকালে ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়সহ আরো কয়েকটি বিশ্ব বিদ্যালয়ের ভিসি, মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাসহ অনেক সংসদ সদস্যেরও সুপারিশ ছিল তাঁর জন্য।
খোঁজ নিয়ে যানা যায়, অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলী চৌধুরী সারা জীবনই বঙ্গবন্ধুর আদর্শের কর্মী। তিনি ছাত্রলীগ ও যুব লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলেন। বর্তমানেও তিনি যুব লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির একজন অন্যতম সদস্য। শিক্ষাসহ সকল পেশাজীবী আন্দেলনেও তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পালন করছেন। বিশেষ করে ওয়ান ইলেভেনের পর উত্তাল পেশাজীবী আন্দোলনে শিক্ষক সমাজের নেতৃত্বে ছিলেন। ২০০৪ সালের ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলার দিনও তিনি ওই সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন এবং আহত নিহতদের সাহাযার্থে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী ও আজকের প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার তহবিলে শিক্ষকদের পক্ষ থেকে অর্থ সাহায্য দিয়েছিলেন।
এর আগে এরশাদ বিরোধী আন্দোলন এবং জামায়াত-বিএনপি বিরোধী আন্দোলনেও ঢাকার রাজপথে পুলিশী নির্যাতনের শিকার হয়ে অনেক রক্ত ঝরিয়েছেন অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলী। নবম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি কুমিল্লা -৫ (বুড়িচং-ব্রহ্মণপাড়া) আসন থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছিলেন।
অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলী চৌধুরী মানিক বর্তমানে বঙ্গবন্ধু শিক্ষক পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির আহবায়ক, সরকার সমর্থিত সর্ববৃহৎ শিক্ষক মোর্চা জাতীয় শিক্ষক কর্মচারী ফ্রন্টের আহবায়ক, পেশাজীবি সমন্বয় পরিষদের যুগ্ম আহবায়ক, বাংলাদেশ কারিগরী কলেজ শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও শিক্ষক কর্মচারী ফেডারেশনের আহবায়ক ও বংগবন্ধু কারিগরী কলেজের অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘদিনধরে শিক্ষক সমাজের দাবী দাওয়ার আন্দোলনে সক্রিয় থাকায় তিনি সবার প্রিয় নেতায় পরিণত হয়েছেন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলী চৌধুরী মানিকসহ বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী অবসর সুবিধা বোর্ড অথবা বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্টের সদস্য সচিব নিয়োগ করা হলে শিক্ষক সমাজ খুব সহজেই তাদের কাঙ্খিত সেবা ও কল্যাণ পাবেন। এক্ষেত্রে তারা জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, শিক্ষামন্ত্রী দিপু মণি ও শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মহিবুর রহমান চৌধুরী নওফেলের আশু পদক্ষেপ কামনা করেছেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ২০০২ সালের ২৭নং আইনের মাধ্যমে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী অবসর সুবিধা বোর্ড গঠন হয়। এ আইনের (বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কমচারী অবসর সুবিধা আইন, ২০০২) ধারা ১৫ তে প্রদত্ত ক্ষমতা বলে প্রণীত প্রবিধান-২০০৫ অনুযায়ী “বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী অবসর সুবিধা” চালু হয়। প্রবিধানমালা-২০০৫ এর উপ-প্রবিধান-১০(১) অনুযায়ী এমপিওভূক্ত অবসরপ্রাপ্ত বেসরকারি শিক্ষক ও কর্মচারীদের অবসরকালীন সময়ের সুবিধা প্রদান করা হয়। প্রসঙ্গত বর্তমানে ব্যানবেইস ভবন, ১ এশিয়ান হাইওয়ে, পলাশী-নীলক্ষেত, ঢাকার নীচতলায় ৫টি কক্ষ নিয়ে এর কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর এর অধীন এমপিওভূক্ত বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও কর্মচারীদের অবসর সুবিধা প্রদান কার্যক্রম এই দুটি বোর্ডের আওতাভূক্ত। এই দুটি প্রতিষ্ঠানে অধিভূক্ত শিক্ষক ও কর্মচারীদের কাছ থেকে ৪% এবং ২% চাঁদা কর্তন করে অবসর সুবিধাদি প্রদান করা হয়ে থাকে।
পদাধিকারবলে এই ২ প্রতিষ্ঠানের প্রধান থাকেন শিক্ষা সচিব ও দ্বিতীয় প্রধান (সদস্য সচিব) থাকেন বেসরকারি শিক্ষকদের মধ্য থেকে সরকার মনোনিত শিক্ষক প্রতিনিধি। মোট ২১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির অন্য সদস্যরা বেসরকারি স্কুল-কলেজ ও মাদাসার শিক্ষক এবং যুগ্ম সচিব পর্যায়ের সরকারী কর্মকর্তা।
চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারী থেকে পদ দুটি শূন্য থাকায় সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন অবসরের পর শেষ বয়সে অসুস্থ হয়ে চিকিৎসাধীন থাকা শিক্ষক-কর্মচারীরা। সারাদেশের বেসরকারি স্কুল, কলেজ, মাদরাসা থেকে অবসর গ্রহণকারী শিক্ষক-কর্মচারীদের ‘অবসর’ এবং ‘কল্যাণ ট্রাস্ট’-এর ভাতা প্রদানকারী হচ্ছে এ দুই প্রতিষ্ঠান। দ্রুত সদস্য সচিব নিয়োগ করা না হলে অন্তত ২৫ হাজার শিক্ষক-কর্মচারীর ভাতা পেতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হবে।
জানা গেছে, এ দুই প্রতিষ্ঠানে অর্থের অভাব ও দীর্ঘসূত্রতার কারণে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে অবসরে যাওয়া শিক্ষক-কর্মচারীদের জীবনের শেষ প্রাপ্তির এই অর্থ ভোগ করার ভাগ্য হয় না। অবসর গ্রহণের পর কল্যাণ ট্রাস্ট ও অবসর বোর্ডের টাকা পেতে সময় লেগে যায় ৩ থেকে ৪ বছর। এ সময়ে অনেক শিক্ষক চলে যান না ফেরার দেশে। সুচিকিৎসার অভাবে কারও আবার পংগুত্বও বরণ করতে হয়। অবসর বোর্ডে প্রতি মাসে সারাদেশের বেসরকারি শিক্ষক ও কর্মচারীদের বেতন থেকে কেটে নেয়া হয় ৪ শতাংশ অর্থ। তা থেকে প্রতি মাসে প্রায় ৩৫ কোটি টাকার জোগান হয়। অথচ প্রতি মাসে যত শিক্ষক অবসরে যান, তাদের প্রাপ্য চাহিদার অর্থ মেটাতে গেলে প্রতি মাসে প্রয়োজন ৭০ কোটি টাকা। ফলে প্রতি মাসেই ঘাটতি থাকে ৩৫ কোটি টাকা।
অন্যদিকে কল্যাণ ট্রাস্টে প্রতি মাসে চাহিদা ৩০ কোটি টাকা। আর শিক্ষকদের বেতন থেকে কেটে নেয়া অর্থ থেকে আসে মাত্র ১৭ কোটি টাকা। ফলে কল্যাণ ট্রাস্টেও প্রতি মাসে ঘাটতি হচ্ছে ১৩ কোটি টাকা। মূলত এই ঘাটতির কারণেই অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের টাকা পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে থাকতে হয়।
অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের অভিযোগ, এমনিতেই প্রতিষ্ঠান দুটিতে অর্থ সংকটের কারণে বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হয় অবসর ও কল্যাণ ভাতা পেতে। এর পর দায়িত্বশীল প্রধান কর্মকর্তার পদ শূন্য থাকলে আরও বেশি ভোগান্তি হবে।
বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী অবসর সুবিধা বোর্ড-এর সদ্য বিদায়ী সদস্য সচিব অধ্যক্ষ শরীফ আহমদ সাদী বলেন, বিদ্যমান আইনে সদস্য-সচিবকে চলতি দায়িত্ব বা ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব দেয়া হয় না। সে জন্য নতুন সদস্য সচিব নিয়োগের পূর্ব পর্যন্ত কোনো আবেদন নিষ্পত্তি করার সুযোগ নেই। পুরনো যেগুলো নিষ্পত্তি হয়েছে, সেগুলোর চেক বিতরণসহ রুটিন দায়িত্ব পালন করবেন অন্য কর্মকর্তারা। প্রায় ১৩ হাজার আবেদন নিষ্পত্তি বাকি।
কল্যাণ ট্রাস্ট-এর সদ্য বিদায়ী সদস্য সচিব অধ্যক্ষ মো. শাহজাহান আলম সাজু জানান, ২০১৭ খ্রিস্টাব্দের জুন পর্যন্ত আবেদনকারীদের পাওনা অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে। এখনও প্রায় ১০ হাজার আবেদন জমা পড়ে আছে, যেগুলো ধারাবাহিকভাবে পরিশোধ করা হবে। পুরনো বেতন স্কেল অনুসারে অবসরপ্রাপ্ত কেউ কেউ অর্ধেক টাকা পেয়েছেন। নতুন স্কেল অনুসারে বাকি টাকাটুকুও তারা পাবেন। সে হিসাবে মোট অনিষ্পন্ন আবেদন ১৫ হাজারের মতো হবে এখনও। এসব আবেদন নিষ্পত্তি করতে প্রয়োজন প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।

এবিএনওয়ার্ল্ড/আলিফ

চেক করুন

বিপিও সম্মেলন শুরু হবে আজ

বিপিও সম্মেলন শুরু হচ্ছে আজ

দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে আউট সোর্সিং খাতের অবস্থান তুলে ধরার লক্ষ্যে আজ রবিবার থেকে রাজধানীতে …

আজ পবিত্র শবেবরাত

আজ পবিত্র শবেবরাত

যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদায় আজ রবিবার দিবাগত রাতে সারাদেশে পবিত্র শবেবরাত পালিত হবে। হিজরি সালের শাবান …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *