‘আমরা যে সুযোগটা পেয়েছি তাতে ব্যবসা-বাণিজ্যের সুবিধা হবে’ — all-banglanews
হোম / অর্থনীতি / ‘আমরা যে সুযোগটা পেয়েছি তাতে ব্যবসা-বাণিজ্যের সুবিধা হবে’

‘আমরা যে সুযোগটা পেয়েছি তাতে ব্যবসা-বাণিজ্যের সুবিধা হবে’

‘আমরা যে সুযোগটা পেয়েছি তাতে ব্যবসা-বাণিজ্যের সুবিধা হবে’
‘আমরা যে সুযোগটা পেয়েছি তাতে ব্যবসা-বাণিজ্যের সুবিধা হবে’

উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে উত্তোরণের সুযোগ গ্রহণ করে ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের প্রতি রপ্তানী বাণিজ্য বৃদ্ধিতে তাঁদের কর্মতৎপরতা আরো জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে আমরা যে সুযোগটা পেয়েছি তাতে আমাদের ঋণ গ্রহণের সুবিধা হবে, ব্যবসা-বাণিজ্যের সুবিধা হবে। যে বিশাল সুযোগ আমাদের সৃষ্টি হবে রপ্তানী বাণিজ্য করার, সেই সযোগটা আমাদের গ্রহণ করতে হবে। আর তার উপযুক্ত পরিবেশ সৃৃষ্টি করতে হবে। আজ রবিবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে জাতীয় রপ্তানী ট্রফি ২০১৫-১৬ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন তিনি।
শেখ হাসিনা বলেন, এলডিসি ভুক্ত দেশ হিসেবে অন্য যে সুযোগগুলো আমরা পাই সেগুলো হয়তো পাব না, তাতে আমাদের কোন অসুবিধা হবে না। কারণ সেভাবেই আমরা আমাদের নীতিমালাসহ সবকিছু প্রণয়ন করেছি। দল মত নির্বিশেষে তাঁর দরজা ব্যবসায়ীদের জন্য সবসময় খোলা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আপনারা দেশ-বিদেশে ঘোরেন, আপনারাও খুঁজে বের করুন কোন দেশে আমাদের দেশের কোন কোন পণ্য রফতানি করা যায়। বাজারকে খুঁজে নেওয়া এবং পণ্যটাকে তৈরি করা, সেটাও কিন্তু আপনাদের একটা দায়িত্ব। সেই ক্ষেত্রে যদি কোনো রকম সহযোগিতা লাগে, অবশ্যই সরকার হিসাবে আমরা তা করব।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো’র যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ সভাপতিত্ব করেন। এফবিসিসিআই সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মফিজুল ইসলাম অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ দেন। অনুষ্ঠানে ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরে বিভিন্ন পণ্য ও খাতভিত্তিক সর্বোচ্চ রপ্তানি আয়ের জন্য ৫৬টি প্রতিষ্ঠানকে ‘জাতীয় রপ্তানি ট্রফি’ প্রদান করা হয়।
আসন্ন নির্বাচণের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে সরকার প্রধান বলেন, ‘যদিও সময় এখন সীমিত। আগামীতে ইলেকশন, কী হবে বলতে পারি না! যতক্ষণ আছি ততক্ষণে যা যা প্রয়োজন সেটা করে দিতে পারব, সেইটুকু কথা দিতে পারি। তিনি বলেন, আগামী ইলেকশনে কী হবে তা বলতে পারি না। তবে আমরা যে একটা সিস্টেম করে রেখেছি, এরপর যেই ক্ষমতায় আসুক না কেন কেউ দেশের উন্নয়নে বাধা দিতে পারবে না। বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়াকে আর কেউ থামাতে পারবে না।
রপ্তানি বাণিজ্য দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম প্রধান নিয়ামক উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার অব্যাহতভাবে রপ্তানিতে উচ্চ-প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে। তিনি বলেন, ২০০৫-০৬ সালে যেখানে রপ্তানি আয় ছিল ১০ দশমিক পাঁচ-দুই বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০১৭-১৮ সালে তা বৃদ্ধি পেয়ে ৩৬ দশমিক ছয়-সাত বিলিয়ন ডলার হয়েছে। রপ্তানিখাতে গতিশীলতা আনয়ন ও রপ্তানি বাণিজ্যে আমাদের শিল্পকে প্রতিযোগিতা-সক্ষম করার লক্ষ্যে আমরা রপ্তানি নীতি ২০১৮-২১ প্রণয়ন করেছি।
শিল্পায়ন ছাড়া কোন জাতির অর্থনৈতিক উন্নতি হয় না উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, এ লক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ইপিজেড তৈরি করা হচ্ছে। সমগ্র বাংলাদেশে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল করা হচ্ছে। ইপিজেড ও বিসিক স্টেটগুলোকে পুরোপুরি কার্যকর করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বিভিন্ন জেলায় বিসিক শিল্পনগরীগুলোতে রপ্তানিমুখী পণ্য উৎপাদনের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। সেখানে বিদেশী বিনিয়োগ আসবে এবং মানুষের কর্মসংস্থান হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, গোটা বাংলাদেশ যাতে উন্নত হয়- সেদিকে লক্ষ্য রেখেই কাজ করে যাচ্ছি। আমরা সব সময় চাই, আমাদের দেশটা এগিয়ে যাক। তাঁর সরকার ব্যবসাবান্ধব, তবে, নিজেরা ব্যবসায়ী নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমি সবসময়ই বলে এসেছি আমার সরকার ব্যবসা করবে না। ব্যবসা করবেন ব্যবসায়ীগণ। আমরা সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করব। আমরা আপনাদের সৃজনশীল প্রয়াসে সহায়তাকারীর ভূমিকা পালন করে যাচ্ছি।
আমরা সরকারে এসে ব্যবসা-বাণিজ্যটা যাতে ব্যবসায়ীদের জন্য সহজ হয় সেই ব্যবস্থাটা কওে দিয়েছি।
প্রধানমন্ত্রী জানান, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৩৫টি পণ্যে ২ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত নগদ সহায়তা প্রদান এবং রপ্তানি শিল্পের কাঁচামাল আমদানির জন্য স্বল্প সুদে ঋণ দেওয়ার জন্য ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ‘এক্সপোর্ট ডেভেলপমেন্ট ফান্ড (ইডিএফ)-এর সংস্থান করা হয়েছে। এ বিষয়ে বর্তমান সরকারের টানা দুই মেয়াদে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে অনেকে আমাদের শুল্কমুক্ত সুবিধা দিয়েছে, জিএসপি সুবিধা দিয়েছে। অন্তত আমি এইটুকু দাবি করতে পারি, যেখানেই আলাপ করেছি সাথে সাথে এই সুযোগগুলো পেয়ে গেছি।
বিশ্ব নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনাকালে তিনি সব সময়ই দেশের পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার লাভের বিষয়টি তুলে ধরেন উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, এর ফলে আমরা চিলি, ভারত, চীন ও দক্ষিণ কোরিয়া থেকে শুল্কমুক্ত পণ্যের প্রবেশাধিকার লাভ করেছি। জাপান ও রাশিয়ায় জিএসপি সুবিধার পরিধি বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়েছি। বাজার বহুমুখী করার জন্য ল্যাটিন আমেরিকা, আফ্রিকা ও মধ্য এশিয়ার দেশসমূহে রপ্তানি সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছি। তিনি বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশের ফলে সমগ্র বাংলাদেশে ব্যবসা-বাণিজ্য উন্মুক্ত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলায় প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করে শেখ হাসিনা বলেন, মেয়েরা তো এখন বেশি এগিয়ে এসেছে। তাই আরও ভালোভাবে শিক্ষিত করে, ট্রেনিং দিয়ে একটা শক্তিশালী জনগোষ্ঠী সৃষ্টি করে তাদের শ্রম ও মেধা কাজে লাগিয়ে দেশকে আরও উন্নত করতে পারব। সেদিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি দিচ্ছি। তিনি বলেন, আমাদের বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সমস্যা ছিল। ইতোমধ্যে আপনারা জানেন এলএনজি আমদানি শুরু করে দিয়েছি। ফ্লোটিং এলএনজি টার্মিনাল করা হয়েছে। কিন্তু আমরা এখন সিদ্ধান্ত নিয়েছি ল্যান্ড বেইজ এলএনজি টার্মিনাল করবো। যাতে গ্যাসের আর কোন সমস্যা কোথাও না থাকে। যাতে আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্যের আরও সুবিধা হয়।
একটা শিল্প করতে গেলে যে চাহিদাগুলো থাকে, সেগুলো যাতে পূরণ করা যায় তার জন্য পদক্ষেপ নিচ্ছি। সেই সঙ্গে নতুন বাজার খুঁজে নিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়াতে চেষ্টা করা হচ্ছে, জানান শেখ হাসিনা। তিনি দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের খন্ডচিত্র তুলে ধরে বলেন, আমি শুধু এইটুকুই বলব, আজকে আমাদের অর্থনীতি যথেষ্ট মজবুত। আমাদের যে উন্নয়ন প্রকল্প তার ৯০ ভাগ নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়ন করার সক্ষমতা অর্জন করেছি এবং উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে আমাদেরকে এগিয়ে যেতে হবে। উন্নত দেশের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হবে।
আঞ্চলিক যোগাযোগ সম্প্রসারণে তাঁর সরকারের প্রচেষ্টা সমূহ তুলে ধরে সরকার প্রধান বলেন, বাংলাদেশকে আমরা উন্নত, সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। এই দক্ষিণ এশিয়ায় উন্নত দেশ হবে বাংলাদেশ- সেই পরিকল্পনা নিয়েই আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। তিনি বলেন, আমরা ২০২১, ২০৪১ এবং ২১০০ ডেলটা প্ল্যান হাতে নিয়েছি। এই ডেলটা প্ল্যান নেদারল্যান্ড সরকারের সাথে যৌথভাবে বাস্তবায়ন করব। যার ফলে বাংলাদেশের এই এগিয়ে যাওয়া আর কেউ থামাতে পারবে না। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে।

এবিএন/এফএম

চেক করুন

আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইস্তেহার আজ

আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইস্তেহার আজ

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা আজ …

আমার কোনো ক্ষতি হলে দায়ী থাকবে ইসি : লতিফ সিদ্দিকী

আমার কোনো ক্ষতি হলে দায়ী থাকবে ইসি : লতিফ সিদ্দিকী

নিজের জীবনের ক্ষতির দায় নির্বাচন কমিশন চাপিয়ে বৃষ্টি, শীত উপেক্ষা করে আমরণ অনশন পালন করে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *