উপজেলা মাস্টার প্লান প্রণয়নে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ — all-banglanews
বুধবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯
হোম / অর্থনীতি / উপজেলা মাস্টার প্লান প্রণয়নে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

উপজেলা মাস্টার প্লান প্রণয়নে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

উপজেলা মাস্টার প্লান প্রণয়নে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ
উপজেলা মাস্টার প্লান প্রণয়নে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যত্রতত্র ভবন, রাস্তা ও অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ রোধ এবং কৃষি জমি রক্ষার লক্ষ্যে সকল উপজেলা সুনির্দিষ্ট উন্নয়ন পরিকল্পনার আওতায় নিয়ে আসার জন্য একটি মাস্টার প্লান প্রণয়নে এলজিআরডি মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, জনগণের অর্থ সাশ্রয় ও কৃষি জমি রক্ষায় উপজেলাগুলোতে অপরিকল্পিত উন্নয়ন অবশ্যই নিয়ন্ত্রণ করতে হবে এবং রাস্তা ও চলাচলের পরিকল্পিত হতে হবে। আজ রবিবার সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী এ নির্দেশ দেন।
মাস্টার প্লানের লে-আউটে আবাসন, হাসপাতাল, মার্কেট, স্কুল, কলেজ, খেলার মাঠ, কৃষি-খামার, শিল্প কারখানা এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা থাকতে হবে। আমরা যদি যথাযথভাবে এটি করতে পারি, তাহলে জনগণ এটি গ্রহণ করবে। ৬০টি জেলা গঠনে বঙ্গবন্ধুর উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নয়ন কার্যক্রম ছড়িয়ে দিতে বঙ্গবন্ধু প্রতিটি জেলাকে একটি প্রশাসনিক ইউনিট হিসেবে তৈরি করেন। ‘যাতে তৃণমূল পর্যায় থেকে আমরা উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারি। এলজিআরডি ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন। প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য, সচিব এসএম গোলাম ফারুক এবং মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সিনিয়র কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
শেখ হাসিনা বলেন, জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে এবং সরকারি অর্থের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে স্থানীয় জনগণের চাহিদা পূরণে সরকার পৃথকভাবে প্রতিটি জেলায় উপজেলায় বার্ষিক বাজেট প্রণয়ন করছে। এতে প্রতিটি উপজেলার আকার, জনসংখ্যা এবং ভৌগলিক সম্ভাবনা বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। দেশের উন্নয়নে এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালীকরণ, তাদের স্থানীয় সরকার উন্নয়ন উদ্যোগে সম্পৃক্ত করা এবং সব উন্নয়ন টেকসই করার লক্ষ্যে তাঁর সরকার প্রশাসনের বিকেন্দ্রীকরণ করতে চায়।
‘আমরা সর্বোচ্চ বরাদ্দ দিয়েছি এলজিআরডি মন্ত্রণালয়কে। এলজিআরডি মন্ত্রণালয় যদি যথাযথভাবে কাজ করে তাহলে আমরা ব্যাপক আকারে দারিদ্র নিরসন করতে সক্ষম হবো। এ কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশকে যদি আমরা দারিদ্র্যমুক্ত করতে পারি তাহলে দেশ দ্রুত এগিয়ে যাবে। তিনি বলেন, তার সরকার শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য খাতে উন্নয়নের সার্বিক পরিকল্পনা গ্রহণ করছে। তবে গ্রাম ও শহরে বসবাসকারী মানুষের মৌলিক চাহিদা বিবেচনা করে পরিকল্পনা নিতে হবে। এলজিআরডি একটি বড় মন্ত্রণালয়। এর বাজেট এবং কর্মকান্ডও অনেক বেশি। এ জন্য সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার মাধ্যমে এই মন্ত্রণালয়ের আওতায় অনেক কাজ সম্পন্ন করা হয়।
শেখ হাসিনা বলেন, চাষযোগ্য সব জমি যেন চাষের আওতায় আসে এবং পল্লীর মানুষের আয় বাড়াতে তারা যেন সমবায় ব্যবস্থায় তাদের পণ্য বিক্রি করতে পারে এলক্ষ্যে একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প নেয়া হয়েছে। সামরিক শাসকরা বিজয়ী জাতি হিসেবে জনগণের আত্মশক্তি ধ্বংস করে দিয়েছে। এ জন্য তারা তাদের নিজ অবস্থান থেকে দেশের জন্য কাজ করতে উৎসাহী ছিল না। এরফলে বাংলাদেশ সারাবিশ্বে নেতিবাচকভাবে চিত্রায়িত হয়েছে। তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশের মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে দেশ স্বাধীন করেছেন। কিন্তু তিনি এই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করে যেতে পারেননি। এ জন্য দেশকে সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে নিতে হরে আমাদেরকে পল্লী এবং দেশের তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের উন্নয়নে গুরুত্ব দিতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমবায় আন্দোলনের গুরুত্বের দিক বিবেচনা করে সংবিধানে সরকারি ও বেসরকারি খাতের পাশাপাশি সমবায়ের কথা বলা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু প্রতিটি গ্রামকে পরিকল্পিত গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। যেখানে সুবাসস্থান, খেলার মাঠ, হাসপাতাল। ফসলের মাঠ এবং অন্যান্য নাগরিক সুবিধা থাকবে। এ জন্য আমাদের ভৌগোলিক অবস্থা, আবহাওয়া, জনসংখ্যার দিক বিবেচনা করে নিজস্ব পরিকল্পনা নিতে হবে। তিনি বলেন, তার ১৯৯৬-২০০১ সালের সরকারের মেয়াদে নেয়া অনেক পরিকল্পনা পরবর্তী বিএনপি সরকার বাস্তবায়ন করেনি। কিন্তু ২০০৯ সাল থেকে টানা ১০ বছর জাতির জন্য তার সরকার কাজ করা এবং দেশকে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে গড়ার প্রচুর সময় পেয়েছে। তিনি তার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে কেউই অবহেলা করতে পারবে না। কারণ, বাংলাদেশ ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত দেশ হিসেবে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করবে।

এবিএন/এফএম

চেক করুন

একশ দিন পর শুরু হতে যাচ্ছে বিশ্বকাপ

একশ দিন পর শুরু হতে যাচ্ছে বিশ্বকাপ

ঠিক একশ’ দিন পর শুরু হতে যাচ্ছে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ আসর আইসিসি বিশ্বকাপ। আগামী ৩০ মে …

মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ডিএমপির নিরাপত্তামূলক কর্মসূচি

মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ডিএমপির নিরাপত্তামূলক কর্মসূচি

একুশে ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০১৯ যথাযথ ও সুশৃঙ্খলভাবে উদযাপন উপলক্ষে ঢাকা মেট্রোপলিটন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *