শিশুর জন্য মোবাইল বা টিভি ক্ষতিকর নয়! — all-banglanews
বুধবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০১৯
হোম / বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি / শিশুর জন্য মোবাইল বা টিভি ক্ষতিকর নয়!

শিশুর জন্য মোবাইল বা টিভি ক্ষতিকর নয়!

শিশুর জন্য মোবাইল বা টিভি ক্ষতিকর নয়!
শিশুর জন্য মোবাইল বা টিভি ক্ষতিকর নয়!

শিশুর জন্য মোবাইল বা টিভি অতটা ক্ষতিকর নয় বলে জানিয়েছে দ্যা রয়াল কলেজ অব পেডিয়াট্রিকস অ্যান্ড চাইল্ড হেল্থ (আরসিপিসিএইচ)-এর গবেষকরা। তাঁদের মতে, মোবাইল বা টিভির স্ক্রিন নিয়ে এত ভয় অমূলক। শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য এসব বিষাক্তও নয়। সম্প্রতি আমেরিকার বিএমজে মেডিকেল জার্নালে প্রকাশিত একটি রিপোর্টে এমনটাই দাবি করেছেন চিকিৎসক-গবেষকরা। ৬-১৪ বছর বয়সি কয়েকশো শিশুর জীবনযাত্রার ওপর এই গবেষণা চলে।
যেহেতু শিশুদের বায়না ভোলাতে কিংবা অভিভাবকদের ব্যস্ততার সময় তাদের হাতে মোবাইল তুলে দেয়া, শিশুদের ব্যস্ত রাখতে কার্টুন দেখানো ঘরে-বাইরে এমন ছবির নজির কম নেই। তার সাথে পাল্লা দিয়ে রয়েছে চিকিৎসকদের সতর্কবার্তাও। ঘন ঘন মোবাইল বা টিভির স্ক্রিন শিশুদের ওপর কতটা কুপ্রভাব বিস্তার করে, সে সম্পর্কে কমবেশি সকলেই সচেতন।
গবেষণার প্রধান রাসেল ভিনারের কথায়, কয়েক জন শিশুকে নিয়ে এই পরীক্ষা করে আমরা দেখেছি শরীরের পক্ষে ঠিক কতখানি স্ক্রিন-সময় ক্ষতিকারক, বা আদৌ তা ক্ষতিকর কি না তার তেমন কোনও প্রমাণই নেই। মোবাইল বা টিভি-র বিষয়ে অভিভাবকরা না জেনেই বড় বেশি ভয় পেয়ে থাকেন। বিশেষ করে হতাশা বা মেদবৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসাবে যে ‘স্ক্রিন-টাইম’-কে দায়ী করা হয়, তারও কোনও নিশ্চিত প্রমাণ নেই। বরং এই সব ইলেকট্রনিক গ্যাজেট আধুনিক যুগের সঙ্গী।
এই দলেরই অন্যতম সদস্য ম্যাক্স ডেভি-র মতে, মোবাইল বা কম্পিউটার বরং জ্ঞানের পরিসর বাড়ায়। সারা বিশ্বে কত কী ঘটে চলেছে, সে সম্পর্কে শিশুরা জানতেও পারে মোবাইল ও কম্পিউটার থেকে। তাই সে সবে হাত দিলেই অভিভাবকদের নিষেধাজ্ঞা উড়ে আসার মতো কোনও কারণ দেখছেন না গবেষকরা।
যদিও তাদের এই রিপোর্ট নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত চিকিৎসা মহল। আরসিপিসিএইচ-এরই আর এক দল চিকিৎসকের মতে, এর আগেও শিশুদের শরীর ও মন নিয়ে গবেষণা চালিয়ে দেখা গিয়েছে, স্ক্রিনিং টাইমের বাড়াবাড়ির কারণেই মানসিক অবসাদ, ওবেসিটি, অন্যমনস্ক স্বভাব এমনকি, খিটখিটে হয়ে যাওয়া, কম ঘুমোনোÍ এ সব নেতিবাচক স্বভাবের শিকার হচ্ছে শিশুরা। সুতরাং সচেতনতার কারণ নেই, এমনটা বললে বিষয়টিকে লঘু করে দেখা হবে।
এই বিতর্ক দানা বেঁধেছে আরও এক কারণে। বিএমজে মেডিক্যাল জার্নালে প্রকাশিত রিপোর্টে চিকিৎসকরাও এত নিশ্চয়তার মধ্যে সামান্য, একটা কিন্তু রেখে দিয়েছেন।গবেষকদের মতে, ঘুমনোর আগে বা পড়াশোনা ও শরীরচর্চার সময় শিশুর হাতে মোবাইল না দেয়া, দিনের মধ্যে অনেকটা সময় টিভি দেখা- এসব শিশুদের মোবাইল ও টিভি-র অপব্যবহার শেখায় ও তাদের নেশাগ্রস্ত করে তোলে। এমনকি খাওয়ার সময় টিভি না দেখার দিকেভোট তাদেরও। তাই এক দিকে মোবাইল বা টিভি থেকে শতহস্ত দূরে না থাকার পরামর্শ দিলেও অন্য দিকে এই সাবাধানতাগুলিও অবলম্বন করতে বলছেন তারা।
আর এখানেই অপর এক চিকিৎসকগোষ্ঠীর দাবি, ক্ষতি করে বলেই এ সব নিষেধাজ্ঞার কথা হালকা ভাবে জানিয়ে রেখেছেন তাঁরাও। এমনই এক জন, লন্ডনের পেডিয়াট্রিক সার্জেন শ্রাবণী চক্রবর্তী। তার মতে, এই গবেষণা কিন্তু বিদেশের মাটিতে হয়েছে। এখানে মোবাইল বা টিভি সেটের শব্দ, আলো সবই অনেকটা স্বাস্থ্যকর যুক্তি মেনে রাখা হয়। তুলনায় ভারতে এই বিষয়গুলি নিয়ে অত সচেতনতার আশ্রয় নেওয়া হয় না। তাই ফলাফলেও ফারাক ঘটে। তা ছাড়া ‘স্ক্রিন টাইম’ কোনও রকম সমস্যা না ঘটালে গবষকরা নিজেরাও সচেতনতার প্রসঙ্গটুকু তুলতেন না। বরং এর আগেও নানা পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে, অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম শিশুদের হাড় ও স্নায়ুর অসুখ, মাথা যন্ত্রণা, মানসিক অবসাদ, সামাজিক না হতে পারার মতো সমস্যা ডেকে আনে। তবে হ্যাঁ, এই গবেষণা প্রমাণ করে যে, সচেতনতা যেমন প্রয়োজন, তেমনই অল্পস্বল্প স্ক্রিন টাইম নিয়ে অকারণে বাতিকগ্রস্ত হওয়ারও কারণ নেই।

তবে কী করা উচিত?

এই গবেষণার প্রেক্ষিতে কলকাতার স্নায়ু ও অস্থিরোগ বিশেষজ্ঞ অমিতাভ নারায়ণ মুখোপাধ্যায়, চক্ষুবিশেষজ্ঞ প্রাপ্তি ঘোষ, মনোরোগ চিকিৎসক অমিতাভ মুখোপাধ্যায়, পেডিয়াট্রিক সার্জেন প্রবাল সরকারদের মতে, অভিভাবক হলে মেনে চলুন মূল কিছু বিষয়।

মোবাইল ছুঁলেই রে রে করে ওঠার দরকার নেই। বরং দিনের মধ্যে এক ঘণ্টা মোবাইল থেকে পড়াশোনা করলে ক্ষতি নেই। কিন্তু তা যেন কখনওই একটানা না হয়।

স্ক্রিন টাইমের মধ্যেই মাঝে মাঝে উঠে চোখে পানি দেওয়ান, প্রতি ২০ মিনিট অন্তর ২০ সেকেন্ডের জন্য চোখ দূরের কোনও জিনিসে রাখুন।

তবে খাওয়ার সময়, পড়াশোনার সময় বা শরীরচর্চার সময় কোনও ভাবেই মোবাইল দেয়া যাবে না। বাচ্চা কাঁদলেই তাকে মোবাইল বা কার্টুন দিয়ে ভোলাবেন না। বরং অন্যায্য কিছুতে আগ্রহী করে তুলুন। তার সারা দিনের অন্যান্য কাজকর্ম ও পড়াশোনার সামগ্রীর মতোই মোবাইল বা কম্পিউটারকে ব্যবহার করতে সেখান। বাতিকগ্রস্ত হয়ে অল্পেই না বলার যেমন কারণ নেই, আবার তেমনই অতিরিক্ত আসক্তি অবশ্যই ক্ষতি করে শরীরে।

এবিএন/এফএম

চেক করুন

বাংলাদেশের উন্নয়নে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে জাপান

বাংলাদেশের উন্নয়নে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে জাপান

সফররত জাপানের অর্থনৈতিক পুনর্জাগরণ বিষয়ক মন্ত্রী তোশিমিতসু মোটেগি বলেছেন, তার দেশ বাংলাদেশের প্রধান উন্নয়ন ক্ষেত্র, …

‘আইন মেনে চলা কতটা স্বস্তিদায়ক হয় সেটা দেখতে চাই’

‘আইন মেনে চলা কতটা স্বস্তিদায়ক হয় সেটা দেখতে চাই’

রাজধানীর গুলিস্তানে ‘ট্রাফিক শৃঙ্খলা পক্ষ-২০১৯’-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, আইন মেনে চলা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *