হাঙ্গেরি যাচ্ছে রাবেয়া-রোকাইয়া — all-banglanews
শনিবার, ২৩ মার্চ, ২০১৯
হোম / স্বাস্থ্যসেবা / হাঙ্গেরি যাচ্ছে রাবেয়া-রোকাইয়া

হাঙ্গেরি যাচ্ছে রাবেয়া-রোকাইয়া

হাঙ্গেরি যাচ্ছে রাবেয়া-রোকাইয়া
হাঙ্গেরি যাচ্ছে রাবেয়া-রোকাইয়া

মাথার অস্ত্রোপচারের জন্য হাঙ্গেরি নেওয়া হচ্ছে পাবনায় জোড়া মাথা নিয়ে জন্ম নেওয়া রাবেয়া-রোকাইয়াকে। উন্নত চিকিৎসার জন্য আজ শুক্রবার রাতের ফ্লাইটেই নিয়ে যাওয়া হচ্ছে তাদের। আজ শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রাজধানীতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ বিষয়টি জানানো হয়। হাঙ্গেরি থেকে ফেরার পর আবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের অধীনে চিকিৎসাধীন এই যমজ শিশুদের ফাইনাল অস্ত্রোপচার করা হবে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ শিশু দুটির চিকিৎসার দায়িত্বে রয়েছেন। হাঙ্গেরিতে চিকিৎসার জন্য তাঁর দেওয়া অনুদান শিশুদের মা-বাবার হাতে তুলে দিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, প্রধানমন্ত্রী বাস্তব অর্থেই মানবতার নেত্রী। তিনি চিকৎসক ও রাবেয়া-রোকাইয়ার বাবা-মাকেও ধন্যবাদ জানিয়ে ওদের চিকিৎসার সাফল্য কামনা করেন।
এদিকে রাবেয়া-রোকাইয়ার বাবা-মার হাতে স্বপরিবারে হাঙ্গেরি যাওয়ার বিমানের টিকেট তুলে দেন। শিশু দুটির সাথে বার্ন ইউনিটের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হোসাইন ইমাম ইমুও হাঙ্গেরি যাবেন।
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই বার্ন ইউনিটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, এক বছর ধরে মাথা জোড়া লাগানো শিশু দুটি বার্ন ইউনিটে চিকিৎসা নিচ্ছে। এর মধ্যে জার্মান ও হাঙ্গেরির দুই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক শিশু দুটিকে দেখেন। তারা হাসপাতালে দুই দফায় মাথায় এনজিওগ্রামের মাধ্যমে তাদের ব্রেইনের প্রধান রক্তনালী আলাদা করেন। এরপর তারা শিশু দুটিকে হাঙ্গেরিতে নিয়ে যৌথ চিকিৎসা করাতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, হাঙ্গেরিতে শিশু দুটির চিকিৎসা তত্ত্বাবধান করবে জার্মানভিত্তিক ‘ফর বাংলাদেশ অর্গানাইজেশন’ নামের একটি সংগঠন।
শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম জানান, দীর্ঘদিন শিশু দুটিকে বার্ন ইউনিটের প্লাস্টিক ও নিউরো সার্জন চিকিৎসা দিচ্ছেন। বাংলাদেশেই তাদের চিকিৎসার দুই ধাপ শেষ হয়েছে। এখন তৃতীয় ধাপ সম্পন্ন করার জন্য তাদের হাঙ্গেরি পাঠানো হচ্ছে। সেখানে ৫টি বিশেষজ্ঞ টিম তাদের চিকিৎসা পরিচালনা করবেন। আনুমানিক ৩ থেকে ৪ মাস তারা সেখানে চিকিৎসা নেবে। সেখানে তাদের ব্রেইনের সফ্ট টিস্যু আলাদা করাই প্রথম কাজ। এর সঙ্গে ইনজেকশনের মাধ্যমে তাদের মাথার খুলি ফুলিয়ে ভেতরে কিছুটা ফাঁকা করা হবে।
তিনি জানান, তাদের পৃথক করার জন্য আমরা যে চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছি এ ধরনের রোগীর সফলতা ২০ শতাংশেরও কম। তবুও আমরা আশাবাদী। এখন থেকে আনুমানিক ছয় মাস পর ঢাকায় শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে তাদের মাথা পৃথক করার কাজ করা হবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী মো. নাসিম প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, বাচ্চাদের জন্য দোয়া করি। তাদের বিরল অপারেশন হতে যাচ্ছে। তারা যেন স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে। আশা করি, হাঙ্গেরি থেকে দেশে আসার পরে তাদের মাথা বিচ্ছিন্ন করাও সম্ভব হবে। প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা ও আর্থিক অনুদানে তাদের বিদেশ পাঠানো হচ্ছে। এর সম্পূর্ণ ব্যয় বহন করবেন তিনি।
প্রসঙ্গত পাবনার চাটমোহর উপজেলার মূলগ্রাম ইউনিয়নের আটলংকা গ্রামের স্কুলশিক্ষক রফিকুল ইসলাম ও তাসলিমা দম্পতির ঘরে জন্মগত ত্রুটি নিয়ে জন্ম নেয় যমজ রাবেয়া ও রোকাইয়া। ২০১৬ সালের ১৬ জুন অপারেশনের মাধ্যমে জন্ম হয় তাদের। অপারেশনের মাধ্যমে শিশু দুটিকে আলাদা করা ব্যয়বহুল ও ঝুঁকিপূর্ণ। গত ২০ নভেম্বর ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করানো হয় তাদের।

এবিএন/এফএম

চেক করুন

বাঘাইছড়িতে ৮ খুনের ঘটনা পরিকল্পিত

বাঘাইছড়িতে ৮ খুনের ঘটনা পরিকল্পিত

রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়িতে ৮ খুনের ঘটনাটি পরিকল্পিত ছিল বলে মন্তব্য করেছেন তদন্ত কমিটির সদস্যরা। ঘটনাস্থল …

ডাকসু নির্বাচন সংক্রান্ত অভিযোগ তদন্তে কমিটি গঠন

ডাকসু নির্বাচন সংক্রান্ত অভিযোগ তদন্তে কমিটি গঠন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) ডাকসু নির্বাচন সংক্রান্ত অভিযোগ তদন্তে ৭ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *