আন্তর্জাতিক ফিলিস্তিন সংহতি দিবস আজ : রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর বাণী – ABNWorld
ঢাকা । শুক্রবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২১, ১লা মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২রা জমাদিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি
হোম / জাতীয় / আন্তর্জাতিক ফিলিস্তিন সংহতি দিবস আজ : রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর বাণী

আন্তর্জাতিক ফিলিস্তিন সংহতি দিবস আজ : রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর বাণী

আন্তর্জাতিক ফিলিস্তিন সংহতি দিবস আজ : রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর বাণী

আজ শনিবার আন্তর্জাতিক ফিলিস্তিন সংহতি দিবস। ১৯৮৭ সালের আজকের এই দিনে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ইউনাইটেড ন্যাশন্স পার্টিশন প্ল্যান ফর প্যালেস্টাইন প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। এরপর থেকে এই দিনটি আন্তর্জাতিক ফিলিস্তিনি সংহতি দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আলাদা আলাদা বাণী দিয়েছেন। এদিকে জাতিসংঘ প্রস্তাব অনুযায়ী ইসরাইল ও ফিলিস্তিন আলাদা দুটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত তা হয়নি। তাই ফিলিস্তিন বা প্যালেস্টাইন পরাধীনতার শৃঙ্খল পরা একটি যুদ্ধাহত দেশ। ইহুদি সা¤্রাজ্যবাদ থেকে নিজ দেশ বাঁচাতে যারা প্রতিনিয়ত লড়াই করে চলেছে। সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে ও নিজেদের দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠে ফিলিস্তিন জনগণ যাতে স্বাধীন রাষ্ট্রের মর্যাদা পায়, ঐক্যবদ্ধ হয়ে বিশ্বে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারে সেই লক্ষে সারা বিশ্বে আন্তর্জাতিক ফিলিস্তিন সংহতি দিবস পালিত হয়।
ফিলিস্তিন এক সময় প্যালেস্টাইন নামে পরিচিত ছিল। তখনকার জনগোষ্ঠীর ২ তৃতীয়াংশ ছিল আরব জাতিভুক্ত বা মুসলিম। আর একভাগ ছিল ইহুদি। ব্রিটিশ শাসনভুক্ত দেশটিতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ব্রিটিশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পাঁয়তারা করা হয়। কিন্তু বিশ্বযুদ্ধ শেষে ১৯৪৭ সালে জাতিসংঘের ফিলিস্তিন বিষয়ক বিশেষ কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে ফিলিস্তিনের জেরুজালেম শহরকে আন্তর্জাতিক শহরের মর্যাদা দিয়ে ফিলিস্তিন ভূ-খন্ডকে আরব ও ইহুদি অধ্যুষিত দুটি রাষ্ট্রে বিভক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এই চক্রান্তেরই অংশ হিসেবে ফিলিস্তিনের একাংশে ইসরায়েল নামে একটি ইহুদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হয়।
কিন্তু ফিলিস্তিনি জনগণের জন্য আলাদা রাষ্ট্র গঠন হয়নি, বরং তারা নিজ আদি নিবাস থেকে বিতাড়িত হতে থাকে। তখন থেকেই ফিলিস্তিন ভূ-খন্ডে আরব ও ইহুদি দ্বন্দ্বের সূত্রপাত; যা বর্তমানে বিশ্ব সংকটের রূপ নিয়েছে। ১৯৭৭ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ২৯ এ নভেম্বরকে ফিলিস্তিনি জনগণের সাথে সংহতি প্রকাশ করতে আন্তর্জাতিক ফিলিস্তিন সংহতি দিবস হিসেবে গ্রহণ করে। এর ১০ বছর পর ১৯৮৭ সালের আজকের এই দিনে ইউনাইটেড ন্যাশন্স পার্টিশন প্ল্যান ফর প্যালেস্টাইন প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। পরবর্তীতে ২০১২ সালে ফিলিস্তিনকে প্রথমবারের মত জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে পর্যবেক্ষক রাষ্ট্রের মর্যাদা দেয়া হয়।
ফিলিস্তিন বিশ্বের নির্যাতিত জনগোষ্ঠীর একটি প্রতিক। এর সাথে জড়িয়ে আছে বিশ্বের মানবতাবাদী মানুষদের আবেগ-অনুভূতি। নানা ঘাত প্রতিঘাতের মধ্যদিয়ে ফিলিস্তিন নামক রাষ্ট্রটি টিকে আছে। টিকে আছে সেই দেশের স্বাধীনতাকামী মানুষেরা। ইতিহাস স্বীকৃত বিষয় হচ্ছে, কোন জাতি, ভূ-খন্ড স্বাতন্ত্র্যবোধ নিয়ে টিকে থাকলে, নিজের বিশ্বাস ও আদর্শের প্রতি অটল থাকলে তাদের অবস্থান দৃঢ় থেকে দৃঢ়তর হতে থাকে। এমনই একটি আদর্শবান জাতি হচ্ছে ফিলিস্তিনী।
আন্তর্জাতিক ফিলিস্তিন সংহতি দিবস উপলক্ষে নিজেদের বাণীতে রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৬৭ সালের সীমান্তের ভিত্তিতে একটি স্বাধীন, সুসংহত ও টেকসই ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে বাংলাদেশের অবস্থান আবারও স্পষ্ট করেছেন। তাঁরা ফিলিস্তিনী জনগণের অবিচ্ছেদ্য আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার, জাতীয় স্বাধীনতা ও স্বার্বভৌমত্বের প্রতি বাংলাদেশের পূর্ণ সমর্থনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। রাষ্ট্রপতি তাঁর বার্তায় বলেন, ফিলিস্তিনী জনগণের সাথে আন্তর্জাতিক সংহতি দিবসে, বাংলাদেশ ফিলিস্তিনী জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রতি পূর্ণ সমর্থন প্রদানের বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করছে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, আমরা পূর্ব জেরুজালেমের সাথে ১৯৬৭ সালের সীমান্তের ভিত্তিতে আল কুদস আল-শরীফকে রাজধানী করে দ্বি-রাষ্ট্র নীতির ভিত্তিতে একটি স্বাধীন ও টেকসই ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে আমাদের নীতিগত অবস্থানের বিষয়টি পুনরুল্লেখ করছি। তিনি বলেন, বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দিকনির্দেশন ও আমাদের সংবিধানের সাথে সঙ্গতি রেখে, বাংলাদেশ সব সময় সাম্রাজ্যবাদ, উপনিবেশবাদ ও বর্ণবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে এগুলোর বিরুদ্ধে নিজেদের অধিকার আদায়ে সংগ্রামরত মানুষকে সমর্থন দিয়ে এসেছে।
আব্দুল হামিদ বলেন, জাতির পিতা ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে তাঁর প্রথম ভাষণে, ১৯৭৪ সালে ওআইসির দ্বিতীয় সম্মেলনে এবং ১৯৭৩ সালে চতুর্থ নাম সম্মেলনে ফিলিস্তিনী জনগণের সংগ্রাম ও আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানান। স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশ এই অবস্থানে অটল রয়েছে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, ১৯৭১ সালে আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও গণহত্যার যন্ত্রণাদায়ক অনুভূতিই আমাদেরকে ফিলিস্তিনীদের উপর হওয়া অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর প্রেরণা যুগিয়েছে। ফিলিস্তিনীদের উপর বহু বছর ধরে অন্যায় করা হচ্ছে। বাংলাদেশ এই সংকটের দ্রুত সমাধানের আহ্বান জানিয়ে আসছে। এই নীতির আলোকে বাংলাদেশ মিয়ানমারের ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরর্ণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছে। বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনে এবং এই সংকটের একটি টেকসই সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমরা ১৯৬৭ সালের সীমান্তের ভিত্তিতে পূর্ব জেরুজালেম-আল কুদস আল-শরীফকে রাজধানী করে দ্বি-রাষ্ট্র নীতির ভিত্তিতে একটি স্বাধীন ও টেকসই ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে আমাদের নীতিগত অবস্থানের বিষয়টি পুনরুল্লেখ করছি। তিনি বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর থেকেই তার এই অবস্থানে অটল রয়েছে। ১৯৭১ সালে আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও গণহত্যার যন্ত্রণাদায়ক অনুভূতিই আমাদেরকে ফিলিস্তিনীদের উপর হওয়া অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর প্রেরণা যুগিয়েছে। ফিলিস্তিনীদের উপর বহু বছর ধরে অন্যায় করা হচ্ছে। বাংলাদেশ এই সংকটের দ্রুত সমাধানের আহ্বান জানিয়ে আসছে।
শেখ হাসিনা বলেন, এই নীতির আলোকে বাংলাদেশ মিয়ানমারের ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরর্ণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছে। বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনে এবং এই সংকটের একটি টেকসই সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে। বাংলাদেশ নারী, শিশু ও বৃদ্ধসহ ফিলিস্তিনী জনগণের উপর দখলদার বাহিনীর শক্তি প্রয়োগের জোরালো বিরোধীতা করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ব্যর্থতাই ফিলিস্তিনী জনগণের দুর্দশার জন্য দায়ী।
এই দিনে বাংলাদেশ জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব অনুযায়ী ফিলিস্তিন ও এর ভূখন্ডগত স্বার্বভৌমত্বের পক্ষে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে আছে উল্লেখ করে বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, আমরা অবিলম্বে ফিলিস্তিনীদের বাড়িঘর ধ্বংস এবং দখলদার বাহিনীর অব্যহত আগ্রাসন ও অবৈধ স্থাপনা বন্ধের আহ্বান জানাচ্ছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা দখলদার ইসরাইলী বাহিনীর এই অব্যহত মানবাধিকারের লংঘনের অবসানের আহ্বান জানাচ্ছি। ফিলিস্তিনীদের মানবাধিকার রক্ষায় এবং জাতিসংঘ প্রস্তাব, আরব পিস ইনিশিয়েটিভ ও কার্টেট রোড ম্যাপের আলোকে এই সংকটের একটি টেকসই ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবশ্যই জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে।

এবিএনওয়ার্ল্ড/এমআর

চেক করুন

করোনা মহামারী : শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি বাড়ল ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত

করোনা মহামারী : শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি বাড়ল ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত

সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী নভেল করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে চলতে থাকা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে (কওমি ছাড়া) চলমান …

সারাদেশে আবারও শৈত্যপ্রবাহ শুরু : চলবে আগামী ৩ দিন

সারাদেশে আবারও শৈত্যপ্রবাহ শুরু : চলবে আগামী ৩ দিন

সারাদেশে আবারও শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়েছে এবং এটি অব্যাহত থাকতে পারে। আগামী ৩ দিনে আবহাওয়া একই …