এক নজরে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা : কাদের ফাঁসি হল, কে কোথায় পলাতক – ABNWorld
ঢাকা । সোমবার, ১ জুন, ২০২০, ১৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৯ই শাওয়াল, ১৪৪১ হিজরী
হোম / আদালত / এক নজরে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা : কাদের ফাঁসি হল, কে কোথায় পলাতক

এক নজরে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা : কাদের ফাঁসি হল, কে কোথায় পলাতক

এক নজরে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা : কাদের ফাঁসি হল, কে কোথায় পলাতক

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বিশ্বনেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মস্বীকৃত খুনি ও বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ক্যাপ্টেন (বরখাস্ত) আবদুল মাজেদ দীর্ঘ দিন পর অবশেষে ধরা পড়েছেন। আজ মঙ্গলবার আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠিয়ে দিয়েছে। এই ঘটনায় আবারও সামনে চলে এসেছে ইতিহাসের বর্বরতম, নৃশংসতম, ভয়াল ও হৃদয় বিদারক বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলাটি। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবার নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। কিন্তু এই হত্যাকাণ্ডের বিচারে পদে পদে বাধা আসে। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পরপরই দায়মুক্তি (ইনডেমনিটি) অধ্যাদেশ জারি করা হয়। ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালের ১২ নভেম্বর দায়মুক্তি আইন বাতিল করে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। ওই বছরের ২ অক্টোবর ধানমন্ডি থানায় বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিগত সহকারী মহিতুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলা করেন।
১৯৯৮ সালের ৮ নভেম্বর তৎকালীন ঢাকার দায়রা জজ কাজী গোলাম রসুল ১৫ জনকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়ে রায় দেন। নিম্ন আদালতের এই রায়ের বিরুদ্ধে আসামিদের আপিল ও মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিতকরণের শুনানি শেষে ২০০০ সালের ১৪ ডিসেম্বর হাইকোর্ট থেকে দ্বিধাবিভক্ত রায় আসে। ২০০১ সালের ৩০ এপ্রিল হাইকোর্টের তৃতীয় বেঞ্চ ১২ আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে ৩ জনকে খালাস দেন। এরপর ১২ আসামির মধ্যে প্রথমে ৪ জন ও পরে এক আসামি আপিল করেন। কিন্তু এরপর আওয়ামী লীগ ক্ষমতা থেকে চলে গেলে ৬ বছর ওই মামলার আপিলের শুনানি বন্ধ থাকে। ফলে আটকে যায় বিচারপ্রক্রিয়া।
দীর্ঘ ৬ বছর পর বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে আপিল বিভাগে একজন বিচারপতি নিয়োগ দেয়ার পর বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলাটি আবার গতি পায়। ২০০৭ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. তাফাজ্জাল ইসলামের নেতৃত্বাধীন ৩ বিচারপতির বেঞ্চ মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ৫ আসামির লিভ টু আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেন। আপিলের অনুমতির প্রায় ২ বছর পর ২০০৯ সালের অক্টোবরে শুনানি শুরু হয়। ২০০৯ সালের ১৯ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ৫ আসামির আপিল খারিজ করেন। ফলে বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নৃশংসভাবে হত্যার দায়ে হাইকোর্টের দেয়া ১২ খুনির মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল থাকে। এর মধ্যদিয়ে ১৩ বছর ধরে চলা এই মামলার বিচারপ্রক্রিয়া শেষ হয়।
বঙ্গবন্ধুকে হত্যার ৩৪ বছর পর ২০০৯ সালের ১৯ নভেম্বর অবশেষে সেই লোম হর্ষক হত্যাকাণ্ডের বিচার কাজ শেষ হয়। খুব ধীরে দীর্ঘ ১২ বছরে নিম্ন আদালত থেকে শুরু করে আইনের প্রতিটি ধাপ স্বচ্ছতার সাথে অতিক্রম করে সর্বোচ্চ আদালতের মাধ্যমে স্বঘোষিত খুনিদের মৃত্যুদণ্ডের রায় দেয়া হয়। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১২ আসামির মধ্যে কারাবন্দি ৫ আসামির ২০১০ সালের ২৮ জানুয়ারি (২৭ জানুয়ারি দিবাগত গভীর রাতে) ফাঁসি কার্যকর হয়। তারা হলেন- সৈয়দ ফারুক রহমান, সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান, মুহিউদ্দিন আহমেদ, বজলুল হুদা ও এ কে এম মহিউদ্দিন আহমেদ। আর ওই রায় কার্যকরের আগেই ২০০২ সালে পলাতক অবস্থায় জিম্বাবুয়েতে মারা যান আসামি আজিজ পাশা।
এদিকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মস্বীকৃত খুনি আবদুল মাজেদ ধরা পড়ার পরও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অন্য ৫ আসামি এখনও পলাতক রয়েছেন। তারা হলেন- লে. কর্নেল (অব.) খন্দকার আব্দুর রশিদ (বরখাস্ত) লিবিয়া ও বেলজিয়ামে অবস্থান করছেন; তিনি বেশিরভাগ সময় লিবিয়াতে থেকেই ব্যবসা-বাণিজ্য করছেন। লে. কর্নেল (অব.) শরীফুল হক ডালিম (বরখাস্ত) পাকিস্তানে অবস্থান করছেন; হংকংয়েও তার যাতায়াত রয়েছে বলে জানা গেছে। লে. কর্নেল (অব.) এ এম রাশেদ চৌধুরী (বরখাস্ত) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লস এঞ্জেলেসে বসবাস করছেন। লে. কর্নেল (অব.) এন এইচ এমবি নূর চৌধুরী (বরখাস্ত) কানাডায় রয়েছেন। আর রিসালদার মোসলেম উদ্দিন ভারতের কোন কারাগারে আটক আছে বলে অনেকে ধারণা করছেন।

এবিএনওয়ার্ল্ড/আলিফ

চেক করুন

অভ্যন্তরীণ রুটে আজ থেকে পুণরায় বিমান চলাচল শুরু

অভ্যন্তরীণ রুটে আজ থেকে পুণরায় বিমান চলাচল শুরু

বিশ্বব্যাপী মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী কোভিড-১৯ (করোনা ভাইরাস)-এর কারণে বিগত ২ মাসেরও বেশি সময় …

২ মাস পরে আল আকসা মসজিদের দরোজা খুলে দেয়া হল আজ

২ মাস পরে আল আকসা মসজিদের দরোজা খুলে দেয়া হল আজ

করোনা ভাইরাসের কারণে ২ মাসের বেশী সময় বন্ধ থাকার পরে মুসলমানদের অন্যতম পবিত্র স্থান আল …