ওইন্ডিজকে গুঁড়িয়ে দিয়ে ওয়ানডে সিরিজ জিতে নিল বাংলাদেশ – ABNWorld
ঢাকা । শুক্রবার, ৫ মার্চ, ২০২১, ২০শে ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২১শে রজব, ১৪৪২ হিজরি
হোম / খেলাধুলা / ওইন্ডিজকে গুঁড়িয়ে দিয়ে ওয়ানডে সিরিজ জিতে নিল বাংলাদেশ

ওইন্ডিজকে গুঁড়িয়ে দিয়ে ওয়ানডে সিরিজ জিতে নিল বাংলাদেশ

ওইন্ডিজকে গুঁড়িয়ে দিয়ে ওয়ানডে সিরিজ জিতে নিল বাংলাদেশ

সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজকে দ্বিতীয় ম্যাচেও উড়িয়ে দিয়ে এক ম্যাচ বাকী থাকতেই ওয়ানডে সিরিজ জিতে নিল বাংলাদেশ। শুক্রবার রাজধানীর মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ৭ উইকেটে জিতেছে টাইগাররা। ৪৩ ওভার ৪ বলে ১৪৮ রানে গুটিয়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ১০০ বল বাকি থাকতে লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে বাংলাদেশ। ফলে ৩ ম্যাচের সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে টানা অর্থাৎ হ্যাটট্রিক ৩ সিরিজ জিতল তারা। এর মধ্যদিয়ে ওয়ানডেতে ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে টানা সপ্তম জয় নিশ্চিত হয়। আর এই কৃতিত্বে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা- আইসিসির ওয়ানডে সুপার লিগে টানা দ্বিতীয় জয় নিয়ে বাংলাদেশের পয়েন্ট দাঁড়াল ২০ এ। তাই বলাই যায় যে, আগামী সোমবার চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরি স্টেডিয়ামে ক্যারিবিয়ানদের হোয়াইটওয়াশ করার লক্ষ্যে মাঠে নামবে নিয়মিত অধিনায়ক হিসেবে নিজের প্রথম সিরিজ জেতা তামিমের দল।
টস জিতে মোহাম্মেদের ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত ছিল বেশ অবাক করা। তামিম জানান, আগের ম্যাচের মত এবারও ফিল্ডিংই নিতেন তিনি। যে ভাবনা থেকে আগে বোলিং নিতে চাওয়া, তা পূরণ করেন মুস্তাফিজ-মিরাজ-সাকিবরা। নিখুঁত লাইন-লেংথে বোলিং করে যাওয়া মুস্তাফিজের বলে রান করার পথ পাচ্ছিলেন না ব্যাটসম্যানরা। মাঝে মধ্যে বল ভেতরে ঢোকানোয় বাঁহাতি এই বোলারের বিপক্ষে বাড়তি সাবধানতা ছিল তাদের। আগের ম্যাচের মত ভেতরে ঢোকা বলেই মুস্তাফিজ নেন প্রথম উইকেট। গালিতে মিরাজের হাতে ধরা পড়েন আমব্রিস।
চতুর্থ ওভারে জোড়া আঘাতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে চেপে ধরেন মিরাজ। অফ স্টাম্পের বাইরের লেংথ বল জায়গা বানিয়ে কাভারের ওপর দিয়ে খেলতে গিয়ে তামিমের হাতে ধরান পড়েন ওটলি। ভুল লাইনে খেলে বোল্ড হয়ে যান জশুয়া। সাকিবকে উইকেট উপহার দেন আন্দ্রে ম্যাককার্থি। অনেকটা যেন প্রথম ম্যাচের পুনরাবৃত্তি। বাঁহাতি স্পিনারের বলে একইভাবে দৃষ্টিকটু স্লগ সুইপ করে বোল্ড হয়ে ফেরেন তিনি।
আগের ম্যাচে প্রতিরোধ গড়া কাইল মেয়ার্স খুলতে পারেননি রানের খাতা। অপ্রয়োজনীয় এক রান আউটে ফিরেন এই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান। ৪১ রানে ৫ উইকেট হারানো ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য তখন ১০০ রানই দূরের পথ। শুরু থেকে আস্থার সাথে খেলছিলেন এনক্রুমা বনার। হাসান মাহমুদের করা শরীরের বেশ কাছের বল কাট করার চেষ্টায় বোল্ড হয়ে ফিরেন এই অলরাউন্ডার। পরের ওভারে জেসনকে এলডিব্লিউর ফাঁদে ফেলেন সাকিব।
টানা দ্বিতীয় ম্যাচে ব্যর্থ রিফার। মিরাজের বলে সফল এলবিডব্লিউর রিভিউ নিয়ে তাকে ফেরায় বাংলাদেশ। এরপর শুরু হয় রভম্যান পাওয়েলের লড়াই। ২ ব্যাটসম্যানকে নিয়ে দলকে দেড়শ রানের কাছে নিয়ে যান তিনি। নবম উইকেটে তাকে দারুণ সাথে দেন আলজারি জোসেফ। ৩টি ৪-এর সাহায্যে ১৭ রান করা এই টেল এন্ডার ব্যাটসম্যানকে ফিরিয়ে সফরকারীদের সর্বোচ্চ ৩২ রানের জুটিটি ভাঙেন মুস্তাফিজ।
এরপর আকিলকে নিয়ে দলকে এগিয়ে নিচ্ছিলেন পাওয়েল। পেসারদের ভালোভাবেই সামলাচ্ছিলেন তারা। নিজের শেষ ওভারে বোলিংয়ে আসা মিরাজকে বেরিয়ে এসে ওড়াতে গিয়ে বলের নাগাল পাননি পাওয়েল। বেলস ফেলে দেন মুশফিক। এর সাথে ওয়ানডেতে এই প্রথম এক সিরিজে কোনো দলকে টানা ২ ম্যাচে দেড়শ রানের নিচে থামিয়ে দিল বাংলাদেশ। প্রথম ওয়ানডেতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ করেছিল ১২২। ৬৬ বলে ২, ৪ ও এক ছক্কায় ৪১ রান করে ফিরেন পাওয়েল। টানা ২ ম্যাচে উইকেটশূন্য রুবেল। তবে আগের ম্যাচের চেয়ে এদিন লাইন-লেংথে অনেক বেশি ধারাবাহিক ছিলেন তিনি। অভিষেকে আলো ছড়ানো হাসান এ দিন ভুগেছেন বেশ। খরুচে বোলিংয়ে ৫৪ রান দিয়ে নিয়েছেন একটি উইকেট।
পক্ষান্তরে নিজের প্রিয় প্রতিপক্ষের বিপক্ষে আবার উজ্জ্বল মিরাজ। তরুণ এই অফ স্পিনার ২৫ রানে নেন ৪ উইকেট, ওয়ানডেতে তার ক্যারিয়ার সেরা। আগের সেরাও ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে, সেবার ২৯ রানে ৪ উইকেট পেয়েছিলেন তিনি। ম্যাচ জুড়ে দুর্দান্ত বোলিং করা মুস্তাফিজ ২ উইকেট নেন ১৫ রানে। আগের ম্যাচের নায়ক সাকিবেরও শিকার দুটি, ৩০ রানে। পরে ব্যাট হাতেও ভালো করেছেন বাঁহাতি এই অলরাউন্ডার।
আগের ম্যাচে ৪৪ রান করা বাঁহাতি এই ওপেনার এবার করেন ৫০। অধিনায়ক হিসেবে নিজের প্রথম ফিফটি করার পথে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি। ওয়ানডেতে এর চেয়ে বেশি রান আছে তার কেবল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। রান তাড়ায় বাংলাদেশের শুরুটা ছিল আত্মবিশ্বাসী। তবে ভালো শুরুটা বড় করতে পারেননি লিটন দাস। আকিল হোসেনের বল জায়গায় দাঁড়িয়ে খেলতে গিয়ে এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরেন এই ওপেনার।
ষষ্ঠ ওভারে বোলিংয়ে এসেই আঘাত হানেন আকিল। তবে আগের ম্যাচের মতো ভীতি ছড়াতে পারেননি তিনি। বাঁহাতি স্পিনারের বিপক্ষে সাবলীল ছিলেন তামিম, নাজমুল হোসেন শান্ত। স্পিনের বিপক্ষে স্বাগতিকদের পায়ের ব্যবহার ছিল কার্যকর। জেসন মোহাম্মেদের সাদামাটা অফ স্পিনে যদিও ভুগছিলেন শান্ত। তেড়েফুড়ে মারতে গিয়ে প্রায় ক্যাচ উঠে যাচ্ছিল। ভাগ্য ভালো ছিল তার, ব্যাটের কানায় লেগে বল যায় থার্ড ম্যানে। পরে আবার লং অফে ক্যাচ দিয়েও বেঁচে যান। পরে সেই মোহাম্মেদের বলেই উইকেট বিলিয়ে আসেন শান্ত। শর্ট বল অন সাইডে যেকোনো জায়গায় খেলতে পারতেন তিনি। কিন্তু ক্যাচ তুলে দেন শর্ট মিডউইকেটে।
দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ৭৫ বলে পঞ্চাশ স্পর্শ করেই ফিরে যান তামিম। রেমন রিফারের বলে ধরা পড়েন কিপার জশুয়া দা সিলভার গ্লাভসে। অধিনায়ক হিসেবে প্রথম ফিফটি পাওয়া তামিমের ৭৬ বলের ইনিংসে তিনটি চার ও একটি ছক্কা। মুশফিকুর রহিমকে নিয়ে বাকিটা সহজেই সারেন সাকিব। নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ফেরার পর ঘরোয়া টুর্নামেন্টে ভুগছিলেন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান। প্রথম ম্যাচে শেষ করে আসতে পারেননি কাজ। এবার তার ব্যাটে দেখা গেল ছন্দে ফেরার আভাস। ৪টি চারে ৫০ বলে ৪৩ রান করেন সাকিব। মুশফিক ২৫ বলে ৯।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংক্ষিপ্ত স্কোর
৪৩.৪ ওভারে ১৪৮ (আমব্রিস ৬, ওটলি ২৪, জশুয়া ৫, ম্যাককার্থি ৩, জেসন ১১, মেয়ার্স ০, বনার ২০, পাওয়েল ৪১, রিফার ২, জোসেফ ১৭, আকিল ১২*; মুস্তাফিজ ৮-৩-১৫-২, রুবেল ৭-০-২৩-০, হাসান ৯-০-৫৪-১, মিরাজ ৯.৪-০-২৫-৪, সাকিব ১০-০-৩০-২)।

বাংলাদেশের সংক্ষিপ্ত স্কোর
৩৩.২ ওভারে ১৪৯/৩ (লিটন ২২, তামিম ৫০, শান্ত ১৭, সাকিব ৪৩, মুশফিক ৯; জোসেফ ১০-০-৪২-০, মেয়ার্স ২-০-১৫-০, আকিল ৯.২-০-৪৫-১, জেসন ৭-০-২৯-১, রিফার ৫-০-১৮-১)।

ফলাফল : বাংলাদেশ ৭ উইকেটে জয়ী
ম্যান অব দা ম্যাচ: মেহেদী হাসান মিরাজ

এবিএনওয়ার্ল্ড/আলিফ

চেক করুন

লবণের বিষাক্ত ভূমিকা থেকেই অকাল মৃত্যু!

লবণের বিষাক্ত ভূমিকা থেকেই অকাল মৃত্যু!

লবণ না থাকলে কি স্বাদ বুঝা যায়! খাবারে লবণ খাওয়া ঠিক আছে। কিন্তু মাত্রাবিহীন লবণ …

১ বছরে বাংলাদেশে করোনায় মারা গেছেন ৪৪ সাংবাদিক

১ বছরে বাংলাদেশে করোনায় মারা গেছেন ৪৪ সাংবাদিক

এক বছরে বিশ্বে ৬৮টি দেশে চলমান করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) মহামারিতে কমপক্ষে ৮৪০ জন সাংবাদিকের মৃত্যু হয়েছে। …