করোনায় মারা গেলেন এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম – ABNWorld
ঢাকা । বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২০, ৬ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৫ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪২ হিজরি
হোম / আদালত / করোনায় মারা গেলেন এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম

করোনায় মারা গেলেন এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম

করোনায় মারা গেলেন এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম

সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী নভেল করোনাভাইরাস মহামারীতে আক্রান্ত হয়ে অবশেষে মারা গেলেন দেশের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। আজ রবিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের (সিএমএইচ) নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন; ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। তিনি স্ত্রী, এক পুত্র ও এক কন্যাসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তার ছেলে সুমন মাহবুব সাংবাদিকতা পেশায় ও কন্যা শিশির কনা আইন পেশায় জড়িত রয়েছেন। আজ সন্ধ্যায় গণমাধ্যমকে এই খবর নিশ্চিত করেছেন তার মেয়ের জামাই রিয়াজুল হক। তিনি বলেন, আজ রবিবার সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিটে তিনি মারা যান। পরে তার ছেলেও ফেসবুকে দেয়া স্ট্যাটাসে এই খবরে সত্যতা নিশ্চিত করেন।
এর আগে করোনায় আক্রান্ত হয়ে গত ৪ সেপ্টেম্বর এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম হাসপাতালে ভর্তি হন। এরপর গত ১৮ সেপ্টেম্বর ভোরে হার্ট এটাক হলে তাকে দ্রুত আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার হৃদযন্ত্র স্বাভাবিকভাবে কাজ করছিল না বলে জানান চিকিৎসকরা। তবে গত ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে আগের তুলনায় তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি ঘটতে শুরু করে। পরে গত ২০ সেপ্টেম্বর তার করোনা নেগেটিভ রিপোর্ট আসে। এরপর আবার তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকে।
এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী। শোকবার্তায় রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বলেন, মাহবুবে আলম বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা পরিচালনায় অসাধারণ দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় তিনি ছিলেন একজন প্রথম সারির যোদ্ধা। একইভাবে শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, তিনি একজন প্রথিতযশা আইনজীবী হিসেবে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অনেক আইনি বিষয়ে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে ভূমিকা রেখেছেন এবং সবসময় ন্যায়নিষ্ঠ থেকে আইনপেশায় নিয়োজিত ছিলেন, যা অনুসরণীয় হয়ে থাকবে।
মাহবুবে আলাম গত ২০০৯ সালের ১৩ জানুয়ারি রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা এটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন এবং একই সাথে পদাধিকারবলে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তারপর মৃত্যু অবধি ওই পদে থেকে বাংলাদেশে একটানা সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে এটর্নি জেনারেলের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
মাহবুবে আলম জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের বিচারের জন্য সংবিধানের ৫ম, ৭ম ও ১৩তম, ১৬তম সংশোধনী মামলা, মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত মতিউর রহমান নিজামী, দেলওয়ার হোসেন সাঈদী, কাদের মোল্লা, মো. কামরুজ্জামান, আলী আহসান মুজাহিদ, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীসহ অনেকের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাপিলেট ডিভিশনে মামলা পরিচালনা করেছেন। একইভাবে হাইকোর্ট ডিভিশনে বিডিআর বিদ্রোহ হত্যা মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
মাহবুবে আলমের জন্ম ১৯৪৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলার মৌছামান্দ্রা গ্রামে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৬৮ সালে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্স এবং ১৯৬৯ সালে লোক প্রশাসনে ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৭২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ডিগ্রি নেন তিনি। ছাত্র জীবনে বাম আন্দোলনে যুক্ত মাহবুবে আলম পরে বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের সহসভাপতির দায়িত্বও পালন করেন। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনে বাংলাদেশে কমিউনিস্ট পার্টিতে বিভক্তির পর রাজনীতি ছেড়ে আইন পেশায় পুরোদমে সক্রিয় হন তিনি।
মাহবুবে আলম ১৯৭৩ সালেই বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে তালিকাভুক্ত হয়ে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সদস্য হন। ১৯৭৫ সালে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে এবং ১৯৮০ সালে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আইন পেশা পরিচালনার অনুমতি পান। ১৯৯৮ সালে আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন তিনি। ১৯৯৩-৯৪ সালে তিনি সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক নির্বাচিত হন।
আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে ১৯৯৮ সালের ১৫ নভেম্বর থেকে ২০০১ সালের ৪ অক্টোবর পর্যন্ত অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্ব পালন করেন মাহবুবে আলম। ২০০৭ সালে দেশে জরুরি অবস্থা জারির আগে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ছিলেন তিনি। সেনা নিয়ন্ত্রিত ওই সরকার আমলে শেখ হাসিনা গ্রেপ্তার হওয়ার পর শীর্ষ আইনজীবীদের অনেকে পিছুটান দিলেও আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর পক্ষে শক্ত হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন মাহবুবে আলম।

এবিএনওয়ার্ল্ড/নওরতন

চেক করুন

স্বামীর লাশ নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে স্ত্রীর মৃত্যু

স্বামীর লাশ নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে স্ত্রীর মৃত্যু

হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া স্বামী নেওয়াজ মিয়ার (৫০) লাশ ঢাকা থেকে বাড়ি ফেরা হল …

করোনা টিকায় স্বেচ্ছাসেবকের মৃত্যু : তবুও চলবে পরীক্ষা

করোনা টিকায় স্বেচ্ছাসেবকের মৃত্যু : তবুও চলবে পরীক্ষা

এবার অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্ভাব্য করোনাভাইরাস টিকা নিয়ে নয়া উদ্বেগ তৈরি হলো। মৃত্যু হলো সেই ভ্যাকসিন …