কাদের সিদ্দিকীরা কিভাবে হাত মেলালেন : প্রশ্ন প্রধানমন্ত্রীর – ABNWorld
ঢাকা । সোমবার, ১ জুন, ২০২০, ১৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৯ই শাওয়াল, ১৪৪১ হিজরী
হোম / হোম / কাদের সিদ্দিকীরা কিভাবে হাত মেলালেন : প্রশ্ন প্রধানমন্ত্রীর

কাদের সিদ্দিকীরা কিভাবে হাত মেলালেন : প্রশ্ন প্রধানমন্ত্রীর

কাদের সিদ্দিকীরা কিভাবে হাত মেলালেন : প্রশ্ন প্রধানমন্ত্রীর
কাদের সিদ্দিকীরা কিভাবে হাত মেলালেন : প্রশ্ন প্রধানমন্ত্রীর

আজ যুদ্ধাপরাধী এবং তাদের পরিবারের সদস্য, জঙ্গিবাদে সম্পৃক্ত ব্যক্তিবর্গ এবং হত্যা ও দুর্নীতির মামলায় সাজা প্রাপ্তদের মনোনয়ন দেয়ায় বিএনপি’র কঠোর সমালোচনা করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, যাদের অপরাধ আজকে প্রমাণিত তাদের সাথে ড. কামাল হোসেন, মান্না, সুলতান মোহম্মদ মনসুর আমাদের কাদের সিদ্দিকীসহ যারা একসময় নীতির কথা শোনাত তারা কিভাবে হাত মেলালেন সেটাই আমার প্রশ্ন। আজ শুক্রবার শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে রাজধানীর ফার্মগেটস্থ বাংলাদেশ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এই আলোচনা সভার আয়োজন করে। দলের সভাপতি শেখ হাসিনা এই সভায় সভাপতিত্ব করেন। সভা পরিচালনা করেন দলের উপপ্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম।
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম, দলের যুগ্ম সম্পাদক এডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমেদ হোসেন, বিএম মোজাম্মেল এবং আফম বাহাউদ্দিন নাছিম এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য পরভীন জাহান কল্পনা সভায় বক্তৃতা করেন। শহিদ বুদ্ধিজীবী ডা.আলীম চৌধুরীর মেয়ে ডা. নুজহাত চৌধুরী এবং শহিদ শহীদুল্লাহ কায়সারের মেয়ে শমী কায়সারও বক্তৃতা করেন।
শেখ হাসিনা বলেন, এরা (বিএনপি) বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসই মুছে ফেলতে চেয়েছিল, ইতিহাসকে বিকৃত করার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু জাতির পিতার হাতে গড়া সংগঠন যে সংগঠনের মাধ্যমে জাতি মুক্তিযুদ্ধ করে বিজয় অর্জন করেছে সেই দল আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় এসেছে তখনই দেশের উন্নয়ন হয়েছে। এ সময় ২০১৪-১৫ সালে বিএনপি-জামায়াতের ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, জনগণ যখন প্রতিহত করেছে তখনই তারা থামতে বাধ্য হয়েছে। সেই খালেদা জিয়া আজ এতিমের অর্থ আত্মস্যাতের অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত। এটা কোন রাজনৈতিক গ্রেফতার ছিল না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক গ্রেফতার যদি করতে হতো তাহলে ১৪ তেও করা যেতো আবার ২০১৫ সালেও করা যেতো। তখন তিনি তার অফিস নামক বাড়ির মধ্যে ৬২ জন মানুষ নিয়ে ৯২ দিন নিজেই অবরুদ্ধ ছিলেন, আর হুকুম দিয়ে মানুষ পুড়য়ে হত্যা করেছেন। তিনি বলেন, আমি চেয়েছিলাম একটি শান্তিপূর্ণ অবস্থার মধ্যদিয়ে এদেশের নির্বাচনটা হোক, জনগণের অধিকার নির্বাচনে ভোট দেয়া, সেটা তারা যথাযথভাবে প্রয়োগ করুক, সেই শান্তিপূর্ণ অবস্থা যাতে দেশে থাকে এজন্য তাদের সাথে আমি দুই দুইবার সংলাপ করলাম। কিন্তু নির্বাচনে এসে দেখলাম অপরাধী এবং তাদের আত্মীয়-স্বজন ও দুর্নীতিবাজদের। নির্বাচনে এরা প্রতিনিধি হবে সেটা জাতি আশা করে নাই।
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের আলোচনা সভায় আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, তারা আজকে দেশের রাজনীতিটাকে অপরাধ জগতে নিয়ে গেছে। আজকে বাংলাদেশের দুর্ভাগ্য একটি রাজনৈতিক দল যত রকমের অপরাধের সাথে যুক্ত। কেউ পাকিস্তানী হানাদারবাহিনীর দোসর কেউ বা মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে বা তাদের পরিবারের সদস্য, ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলার আসামী-তাদেরকে মনোনয়ন দিয়েছে। আমার প্রশ্ন হচ্ছে যারা এ ধরনের মানবতাবিরোধী কাজ করেছে তাদের নির্বাচিত করে তারা দেশটাকে কোথায় নিয়ে যাবে? তিনি বলেন, আমেরিকার কংগ্রেস থেকে একটি তালিকা পাঠিয়েছে সেখানেও জঙ্গিবাদী হিসেবে এদের নাম রয়েছে এবং ইতোমধ্যেই কানাডার আদালত বিএনপিকে একটি জঙ্গিবাদী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এরা যদি নির্বাচিত হয়ে দেশের ক্ষমতায় আসে তাহলে সেই দেশের অবস্থা কোথায় দাঁড়াবে, মানুষের জান-মালের নিরাপত্তা কিভাবে থাকবে,এদেশে শান্তি কিভাবে থাকবে, অগ্রগতি কিভাবে হবে, কোনদিনও হবে না। আমাদের ওয়াদা ছিল জাতির কাছে ক্ষমতায় গেলে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করবো। সে অনুযায়ী আন্তর্জাতিক ট্রাইবুনাল করে ’৭১ এর মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করি এবং অনেকের বিচারের রায় ও কার্যকর হয়েছে। তিনি বলেন, কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় আজকে আমরা দেখি যারা এই মানবাধিকারবিরোধী অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত তাদেরই পরিবারবর্গকে, আপনজনকে নিয়ে বিএনপিসহ জোট করা হয়েছে। সেই জোটে অনেকেই এখন আছে।
প্রধানমন্ত্রী এ সময় দলত্যাগ করে এবং আদর্শ বিচ্যুত হয়ে গুটিকতক নেতৃবৃন্দের ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচনের সমালোচনা করে বলেন, তাদের কাছে আমার প্রশ্ন যারা এতবড় অপরাধ করলো যে পাকিস্তানী বাহিনীকে আমরা পরাজিত করলাম তাদেরই দোসরদেরকে ধানের শীষ দেয়া হলো। আর যারা একদা আমাদের সাথে ছিল আজকে চলে গেছে তারা কিভাবে নির্বাচন করবে। আর কিভাবেই বা নির্বাচন করে। এ প্রশ্নের উত্তর তারা জাতির কাছে দিতে পারবে কিনা আমি জানিনা। শেখ হাসিনা দেশবাসীর কাছে এসব চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী, তাদের দোসর এবং জঙ্গিবাদ এবং হত্যাকান্ডের সঙ্গে যুক্তদের প্রত্যাখ্যান করারও উদাত্ত আহবান জানান। তিনি বলেন, আমি দেশবাসীকে বলবো অপরাধীদেরকে ভোট দেবেন না, এই অপরাধীরা বাংলাদেশে যেন আর কখনও নির্বাচনে প্রতিনিধি হয়ে আসতে না পারে । যে সব এলাকায় তারা দাঁড়িয়েছে (নির্বাচনে) তাদেরকে চিহ্নিত করুন এবং তাদেরকে একেবারে বয়কট করে দিন। এরা ক্ষমতায় আসলে এদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হবে, এদেশের অগ্রগতি ব্যহত হবে, এদেশের ভাগ্য গড়ার জন্য আজকে যে অর্থনৈতিক উন্নয়নটা হচ্ছে সেটাও থেমে যাবে।

এবিএন/এফএম

চেক করুন

'ক্রমেই শারীরিক ক্ষতি করার শক্তি হারাচ্ছে করোনাভাইরাস'

‘ক্রমেই শারীরিক ক্ষতি করার শক্তি হারাচ্ছে করোনাভাইরাস’

বিশ্বব্যাপী মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী নভেল করোনাভাইরাস আস্তে আস্তে মানুষের শারীরিক ক্ষতি করার শক্তি …

গণপরিবহন নেমেছে রাস্তায় : মানছে না স্বাস্থ্যবিধি, নেই কোন শৃঙ্খলা

গণপরিবহন নেমেছে রাস্তায় : মানছে না স্বাস্থ্যবিধি, নেই কোন শৃঙ্খলা

বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণের মধ্যেও ২ মাস ৭দিন পর দিন পর সড়কে …