কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতাল : মাত্র ১০ টাকায় সর্বাধুনিক চিকিৎসা - all-banglanews
ঢাকা। শুক্রবার, ৫ আশ্বিন, ১৪২৬; ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯; ১৯ মুহাররম, ১৪৪১
হোম / স্বাস্থ্যসেবা / কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতাল : মাত্র ১০ টাকায় সর্বাধুনিক চিকিৎসা

কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতাল : মাত্র ১০ টাকায় সর্বাধুনিক চিকিৎসা

কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতাল : মাত্র ১০ টাকায় সর্বাধুনিক চিকিৎসা
কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতাল : মাত্র ১০ টাকায় সর্বাধুনিক চিকিৎসা

অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে, বিদেশে গিয়ে লাখ-লাখ টাকা খরচ করে যে চিকিৎসা করানো হয় তা এখন বাংলাদেশেই পাওয়া যাচ্ছে এবং তাও মাত্র ১০ টাকার বিনিময়েই। রাজধানির উত্তরায় অবস্থিত কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতাল– যেখানে মাত্র ১০ টাকায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মাধ্যমে দেয়া হয় সর্বাধুনিক মানের উন্নততর সকল চিকিৎসা সেবা এবং একই সাথে প্রয়োজনীয় নানা ওষুধপত্রও প্রদান করা হয় সম্পূর্ণ বিনামুল্যে। উত্তরা আজমপুর রাজউক স্কুল এন্ড কলেজের পেছনে অবস্থিত এই হাসপাতালটি উন্নত দেশের ন্যায় অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি দিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে। এতে অপারেশন থিয়েটার, পরীক্ষা-নিরীক্ষা বিভাগ, আইসিইউ, ওয়ার্ড, কেবিন, বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগসহ অন্তত ২২টি বিভাগ রয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, কুয়েত জয়েন্ট রিলিফ কমিটির অর্থায়নে উত্তরায় ৩ একর জমির ওপর কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতাল নির্মাণ করা হয় ২০০১ সালে। ওই বছরের ১০ জুন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হাসপাতালটি উদ্বোধন করেন। একই বছরের অক্টোবরে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করে। এরপর ২০০২ সালে আর্থিক সংকটের অজুহাতে কুয়েত জয়েন্ট রিলিফ কমিটি ওই হাসপাতাল থেকে তাদের সহায়তা তুলে নেয়।
একপর্যায়ে চুক্তি করে ওই বছরের ১৮ ডিসেম্বর হাসপাতাল ভবনটিকে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মাধ্যমে আমেরিকান হসপিটাল কনসোর্টিয়ামের কাছে হস্তান্তর করা হয়। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, ২০০৮ সালের ৩০ জুনের মধ্যে আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতালে উন্নীত করার কথা থাকলেও বাস্তবে তা কার্যকর হয়নি। এরপর হাসপাতালটি সরকারি ব্যবস্থাপনায় নেয়ার প্রস্তুতির মুহূর্তে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আদালতের শরণাপন্ন হলে লিজ চুক্তি বাতিলের বিষয়টি ঝুলে যায়। পরে সরকারের আওতায় এনে হাসপাতালটি চালু করা হয়।
অবশ্য ২০০১ সালে অত্যাধুনিক ও বিশাল এই হাসপাতালটি চালু হওয়ার কথা থাকলেও বিভিন্ন ঘটনাপ্রবাহের মধ্যদিয়ে গত ২০১৭ সালে এই হাসপাতালটি সেবা প্রদান শুরু করে। সেবার বিষয়ে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শহিদুল গণি তখন গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, নিভু-নিভু অবস্থায় মাস দুয়েক আগে আমাকে হাসপাতালের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। ২৩ জন চিকিৎসক নিয়োগ দিয়ে আমরা সেবা প্রদান শুরু করেছি। ৬ মাসের মধ্যে এই হাসপাতালে ৩০০ শয্যার ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি সব ধরনের জরুরি সেবার ব্যবস্থা এ বছরের মধ্যেই হবে। রোগীদের সেবা দিতে এবং হাসপাতাল সম্পর্কে জানাতে উত্তরাসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় লিফলেট বিতরণ ও মাইকিং করা হচ্ছে।
বর্তমানে এই হাসপাতালে মাত্র ১০ টাকায় দেশের প্রথম সারির বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের চিকিৎসা পাচ্ছেন রোগীরা। নামিদামি প্রাইভেট চেম্বারে গিয়ে ৩ থেকে ৫ মাস অপেক্ষা করেও যাদের সিরিয়াল পাওয়া যায় না সেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরাই ওই হাসপাতালে রোগী দেখছেন। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত নিরীহ-দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন প্রতিদিন। সেখানকার চিকিৎসকরা জানান, এখন আর চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওযার কোন প্রয়োজন নেই। এই হাসপাতালে অপারেশন ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার যন্ত্রপাতি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ উন্নত দেশ থেকে ক্রয় করা হয়েছে; যা এদেশে অন্য কো চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠানে নেই।
কুয়েত বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারী হাসপাতালের একজন কর্মকর্তা জানান, প্রতিদিন বহির্বিভাগে শত শত রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। জরুরি বিভাগ ২৪ ঘণ্টা চালু করা হয়েছে। এছাড়াও জরুরি বিভাগে ডিউটি ডাক্তারের পাশপাশি একজন করে সহযোগী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দায়িত্ব পালন করছেন। যাতে সংকটাপন্ন রোগীর বিষয়ে তাৎক্ষণিক চিকিৎসাসেবার প্রস্তুতি নিতে পারেন। তিনি বলেন, এছাড়া সকাল ৭টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত বহির্বিভাগে রোগী দেখা হচ্ছে। সেখানেও সহযোগী বিশেষজ্ঞ দ্বারা চিকিৎসাপত্র দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ডাক্তার, নার্স দিয়ে আগত রোগীদের সুচিকিৎসায় এখানকার চিকিৎসকরা নিষ্ঠার সঙ্গে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।
একজন চিকিৎসক জানান, এই হাসপাতালে বড়দের পাশাপশি শিশু বিষয়ক চিকিৎসা ও অপারেশনের পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা রয়েছে। জরুরি বিভাগের একজন চিকিৎসক বলেন, জরুরি বিভাগে দৈনিক এক থেকে দেড়শ রোগী আসেন। যাদের মধ্যে অধিকাংশ সংকটাপন্ন থাকেন। তিনি বলেন, এখানে বিনামূল্যে অনেক জটিল অপারেশন করে রোগীরা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন। আর ছোটখাটো অপারেশন প্রতিদিনই হচ্ছে। এছাড়া এখানে যে ধরনের অপারেশন করা হয় তা বিদেশে করতে কমপক্ষে ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা ব্যয় হতো। কুয়েত বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারী হাসপাতাল হওয়ায় তা থেকে সবাই রেহাই পেয়েছেন।
চিকিৎসকরা জানান, প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে শুধুমাত্র জরুরি বিভাগে এক থেকে দেড়শ রোগী আসেন ভর্তি হওয়ার জন্য। একটি আসন খালি হওয়ার সাথে সাথে শত শত রোগী হুমড়ি খেয়ে পড়েন। এছাড়াও বহির্বিভাগে দৈনিক ৭ থেকে ৮ শত রোগীকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। সেখান থেকেও দৈনিক ১০ থেকে ১৫ জন রোগীর ভর্তি প্রয়োজন হয়ে থাকে। ফলে তাদেরকেও ফিরে যেতে হচ্ছে।
তবে উন্নতমানের প্রযুক্তি আর মাত্র ১০ টাকায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা পেয়ে খুশি রোগীরা। রোগীর স্বজনার জানান, বিদেশে লাখ লাখ টাকা খরচ করে চিকিৎসা করতে হয়। আর এখানে মাত্র ১০ টাকায় ভর্তি হয়েই বিদেশের চিকিৎসা পাওয়া যাচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তি আর হাতের কাছে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সেবা পেতে প্রতিদিন রাজধানীর বাইরের রোগীরাই বেশি ভিড় জমাচ্ছেন এবং অধিকাংশ রোগীই চিকিৎসাসেবা পেয়ে আনন্দ চিত্তে বাড়ি ফিরছেন।

এবিএনওয়ার্ল্ড/আলিফ

চেক করুন

নিজ ঘরে ২ মেয়ে শিশুসহ গৃহবধুকে গলা কেটে হত্যা

নিজ ঘরে ২ মেয়েশিশুসহ গৃহবধুকে গলা কেটে হত্যা

এবার নারায়ণগঞ্জে নিজ ঘরে ২ মেয়েশিশুসহ এক গৃহবধুকে গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এই ঘটনায় …

বাংলাদেশকে নূর চৌধুরীর তথ্য দেয়ার নির্দেশ কানাডার আদালতের

বাংলাদেশকে নূর চৌধুরীর তথ্য দেয়ার নির্দেশ কানাডার আদালতের

কানাডার রাষ্ট্রীয় রীতি ভেঙ্গে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বিশ্বনেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অন্যতম আত্মস্বীকৃত …