কে এই মাজেদ : এত দিন কোথায় ছিলেন, ধরাইবা পড়লেন কিভাবে – ABNWorld
ঢাকা । সোমবার, ১ জুন, ২০২০, ১৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৯ই শাওয়াল, ১৪৪১ হিজরী
হোম / আদালত / কে এই মাজেদ : এত দিন কোথায় ছিলেন, ধরাইবা পড়লেন কিভাবে

কে এই মাজেদ : এত দিন কোথায় ছিলেন, ধরাইবা পড়লেন কিভাবে

কে এই মাজেদ : এত দিন কোথায় ছিলেন, ধরাইবা পড়লেন কিভাবে

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বিশ্বনেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মস্বীকৃত খুনি ও বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ক্যাপ্টেন (বরখাস্ত) আবদুল মাজেদ ধরা পড়লেন দীর্ঘ দিন পর। আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে। আজ মঙ্গলবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম জুলফিকার হায়াৎ তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এর পর আজ বেলা ১টা ৫ মিনিটের দিকে তাকে প্রিজন ভ্যানে করে কেরানীগঞ্জে অবস্থিত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে বেলা সোয়া ১২ টার দিকে ফৌজদারি কার্যবিধি ৫৪ ধারায় তাকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম এন্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি)। এসময় বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানোর আগে পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করা হয়।
তারও আগে পুলিশ বঙ্গবন্ধুর খুনি মাজেদকে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট এবং হেলমেট পরিয়ে আদালতে তোলে। আবদুল মাজেদ যখন আসামির কাঠগড়ায় অবস্থান করছিলেন, তখন তার সাথে কথা বলেন সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) হেমায়েত উদ্দিন খান। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর খুনি মাজেদকে আমি জিজ্ঞাসা করেছিলাম, বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর এত দিন আপনি কোথায় ছিলেন? জবাবে খুনি মাজেদ জানান, ২২-২৩ বছর তিনি ভারতের কলকাতায় অবস্থান ছিলেন। সেখান থেকে চলতি বছরের মার্চের মাঝামাঝি সময় তিনি বাংলাদেশে এসেছেন। এরপর থেকে তিনি ঢাকায় ছিলেন। পিপি বলেন, খুনি মাজেদ তাকে জানান, তার এক ছেলে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন।
আদালতে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) দেয়া প্রতিবেদন অনুযায়ী, বঙ্গবন্ধুর খুনি মাজেদকে সোমবার দিবাগত রাত ৩ টা ৪৫ মিনিটে রাজধানীর গাবতলী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের উপপরিদর্শক (এসআই) আদালতে জমা দেয়া প্রতিবেদনে জানান, নিয়মিত টহলে ছিলেন তিনি। রাত ৩টা ৪৫ মিনিটে গাবতলী বাসস্ট্যান্ডের সামনে দিয়ে সন্দেহজনকভাবে রিকশায় করে যাওয়ার সময় ওই ব্যক্তিকে থামানো হয়। জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি অসংলগ্ন কথা বলতে থাকেন। ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি নিজের আসল নাম-ঠিকানা প্রকাশ করতে বধ্য হন। তিনি বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি বলে স্বীকার করেন। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি আরও স্বীকার করেন, গ্রেপ্তার এড়ানোর জন্য এত দিন ভারতসহ বিভিন্ন দেশে আত্মগোপন করে ছিলেন তিনি। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষ ক্যাপ্টেন মাজেদকে জামিন না দিয়ে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করে। আবেদনের শুনানি করেন সরকারি কৌঁসুলি হেমায়েত উদ্দিন খান।
বরিশাল বিভাগের ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার বাটামারা গ্রামের আলী মিয়া চৌধুরীর ছেলে আবদুল মাজেদ। তিনি ১৯৭৫ সালে সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন ছিলেন। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট ধানমণ্ডি ৩২ নম্বর রোডে বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নিয়েছিলেন মাজেদ। অবশ্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, মাজেদ শুধু বঙ্গবন্ধু হত্যায় অংশগ্রহণ করেনি, সে জেলহত্যায় অংশগ্রহণ করেছেন বলে আমাদের জানা রয়েছে। খুনের পরে জিয়াউর রহমানের নির্দেশ মোতাবেক সে বঙ্গভবন ও অন্যান্য জায়গায় কাজ করেছে।
এদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা শরীফ মাহমুদ অপু এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, জিয়াউর রহমানের আমলে ১৯৮০ সালের ২৬ মার্চ আবদুল মাজেদকে বিআইডব্লিউটিসিতে চাকরি দেয়া হয়। সেনাবাহিনীর চাকরি থেকে অবসর নিয়ে উপসচিবের মর্যাদায় তিনি বিআইডব্লিউটিসিতে যোগ দেন। পরে তাকে সচিব পদেও পদোন্নতি দেয়া হয়। ১৯৯৬ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচার শুরু হলে আত্মগোপনে চলে যান মাজেদ। মাজেদের স্ত্রী সালেহা বেগম, ৪ মেয়ে ও ১ ছেলে ঢাকা সেনানিবাসের ১ নম্বর রোডের একটি বাসায় বসবাস করছেন।

এবিএনওয়ার্ল্ড/এমআর

চেক করুন

গণপরিবহন চালু হচ্ছে আজ : করোনকালীন ভাড়া বৃদ্ধি ৬০ ভাগ

গণপরিবহন চালু হচ্ছে আজ : করোনকালীন ভাড়া বৃদ্ধি ৬০ ভাগ

বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী নভেল করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে ২ মাসেরও বেশি সময় বন্ধ থাকার পর …

অভ্যন্তরীণ রুটে আজ থেকে পুণরায় বিমান চলাচল শুরু

অভ্যন্তরীণ রুটে আজ থেকে পুণরায় বিমান চলাচল শুরু

বিশ্বব্যাপী মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী কোভিড-১৯ (করোনা ভাইরাস)-এর কারণে বিগত ২ মাসেরও বেশি সময় …