জনপ্রিয় অভিনেতা এ টি এম শামসুজ্জামান আর নেই – ABNWorld
ঢাকা । শুক্রবার, ৫ মার্চ, ২০২১, ২০শে ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২১শে রজব, ১৪৪২ হিজরি
হোম / জাতীয় / জনপ্রিয় অভিনেতা এ টি এম শামসুজ্জামান আর নেই

জনপ্রিয় অভিনেতা এ টি এম শামসুজ্জামান আর নেই

জনপ্রিয় অভিনেতা এ টি এম শামসুজ্জামান আর নেই

উপমহাদেশের অত্যন্ত জনপ্রিয় অভিনেতা এ টি এম শামসুজ্জামান আর নেই। আজ শনিবার সকাল ৮টায় রাজধানীর সূত্রাপুরে তার নিজ বাসায় তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন; ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। তিনি স্ত্রী, ৩ মেয়ে ও ২ ছেলেসহ অসংখ্য ভক্ত ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। গণমাধ্যমকে তার মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন তার মেয়ে কোয়েল আহমেদ। আজ জোহরের পর জানাজা শেষে তাকে জুরাইন কবরস্থানে তার বড় ছেলে কামরুজ্জামান কবীরের পাশে সমাহিত করা হবে বলে তার পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে। বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনের প্রবীণ এই অভিনেতা একাধারে দীর্ঘদিন নিজের জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছেন। সেই ১৯৬০ এর দশক থেকে শতাধিক চলচ্চিত্রের বহু খল ও কমেডি চরিত্রকে তিনি অমর করে রেখেছেন।
এদিকে এ টি এম শামসুজ্জামানের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এক বিবৃতিতে বলেছেন, এটিএম শামসুজ্জামানের মৃত্যু দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। বাংলাদেশে অসাম্প্রদায়িক চেতনার বিকাশে তার অবদান মানুষ শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে। আর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার শোকবার্তায় বলেছেন, জনপ্রিয় এই শিল্পী তার অসাধারণ অভিনয়ের মধ্য দিয়ে দেশবাসীর হৃদয়ে বেঁচে থাকবেন।
এটিএম শামসুজ্জামান দীর্ঘদিন ধরেই বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। শ্বাসকষ্টের সমস্যা নিয়ে গত বুধবারও তাকে হাসপাতালে যেতে হয়েছিল। শুক্রবার বিকালে সেখান থেকে বাসায় ফিরেছিলেন তিনি। সকালে পরিবারের সদস্যরা নাস্তার জন্য ডাকতে গিয়ে বুঝতে পারেন, তার ঘুম আর ভাঙবে না। দীর্ঘ ৬ দশকের ক্যারিয়ারে অভিনয়ের জোরেই নিজের নামটিকে একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে পেরেছিলেন এটিএম শামসুজ্জামান। তবে তিনি ছিলেন একাধারে পরিচালক, চিত্রনাট্যকার, সংলাপকার ও গল্পকার। তার লেখা চিত্রনাট্যের সংখ্যা শতাধিক। অভিনয়ের জন্য আজীবন সম্মাননার পাশাপাশি ৫ বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়া এটিএম শামসুজ্জামান ২০১৫ সালে একুশে পদকে ভূষিত হন।
তার ছোট ভাই সালেহ জামান জানান, বেশ কয়েক বছর ধরে নানান শারীরিক সমস্যায় ছিলেন এ টি এম শামসুজ্জামান। ২০১৯ সালের ২৬ এপ্রিল রাতেও বাসায় অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। সেদিন তার খুব শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল। সে রাতে তাকে রাজধানীর গেন্ডারিয়ার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ টি এম শামসুজ্জামানের অন্ত্রে প্যাঁচ লেগেছিল। সেখান থেকে আন্ত্রিক প্রতিবন্ধকতা। এতে বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দেয়। তার দেহে অস্ত্রোপচার করা হয়। এরপর কিছু শারীরিক জটিলতা হয়।
২০১৯ সালের ডিসেম্বরে সর্বশেষ আবারও এ টি এম শামসুজ্জামানকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। তখন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কেবিন ব্লকের তৃতীয় তলায় তাঁর চিকিৎসাসেবা চলে। দেশে করোনার প্রাদুর্ভাব শুরুর আগে চিকিৎসা শেষে বাসায় নিয়ে যাওয়া হয় এ অভিনেতাকে।
এক বছর ধরে শারীরিকভাবে ভালই ছিলেন। কোন সমস্যা দেখা দেয়নি। বাসায় চিকিৎসা চলছিল। হঠাৎ গত বুধবার বিকেলে তীব্র শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে। এবার শ্বাসকষ্ট দেখে চিকিৎসকেরা প্রথম দিকে ধারণা করেছিলেন, তিনি করোনায় আক্রান্ত। পরে পরীক্ষার জন্য নমুনা নেয়া হয়। ফলাফলে জানা যায় করোনা নেগেটিভ। এ ছাড়া ২ দিনের চিকিৎসায় তার শারীরিক সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পূর্ণ হয়েছে। অবস্থা কিছুটা ভাল হলে গতকাল শুক্রবার হাসপাতাল থেকে বাসায় নেয়া হয় তাকে। কিন্তু আজ হঠাৎই আবার তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন।
এ টি এম শামসুজ্জামান ১৯৪১ সালের ১০ সেপ্টেম্বর নোয়াখালীর দৌলতপুরে নানাবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলার ভোলাকোটের বড়বাড়ি আর ঢাকায় থাকতেন দেবেন্দ্র নাথ দাস লেনে। পড়াশোনা করেছেন ঢাকার পোগোজ স্কুল, কলেজিয়েট স্কুল ও রাজশাহীর লোকনাথ হাইস্কুলে। তার বাবা নূরুজ্জামান ছিলেন নামকরা উকিল এবং শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের সাথে রাজনীতি করতেন। ৫ ভাই ও ৩ বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার বড়। তার চলচ্চিত্রজীবনের শুরু ১৯৬১ সালে পরিচালক উদয়ন চৌধুরীর ‘বিষকন্যা’ চলচ্চিত্রে সহকারী পরিচালক হিসেবে। প্রথম কাহিনি ও চিত্রনাট্য লিখেছেন ‘জলছবি’ চলচ্চিত্রের জন্য।
প্রসঙ্গত ওই ছবির পরিচালক ছিলেন নারায়ণ ঘোষ মিতা, এ ছবির মাধ্যমেই অভিনেতা ফারুকের চলচ্চিত্রে অভিষেক। এ পর্যন্ত শতাধিক চিত্রনাট্য ও কাহিনি লিখেছেন। প্রথম দিকে কৌতুকাভিনেতা হিসেবে চলচ্চিত্রজীবন শুরু করেন তিনি। অভিনেতা হিসেবে চলচ্চিত্র পর্দায় আগমন ১৯৬৫ সালের দিকে। ১৯৭৬ সালে চলচ্চিত্রকার আমজাদ হোসেনের ‘নয়নমণি’ চলচ্চিত্রে খলনায়কের চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে আলোচনায় আসেন তিনি। ১৯৮৭ সালে কাজী হায়াৎ পরিচালিত ‘দায়ী কে?’

এবিএনওয়ার্ল্ড/আলিফ

চেক করুন

লবণের বিষাক্ত ভূমিকা থেকেই অকাল মৃত্যু!

লবণের বিষাক্ত ভূমিকা থেকেই অকাল মৃত্যু!

লবণ না থাকলে কি স্বাদ বুঝা যায়! খাবারে লবণ খাওয়া ঠিক আছে। কিন্তু মাত্রাবিহীন লবণ …

১ বছরে বাংলাদেশে করোনায় মারা গেছেন ৪৪ সাংবাদিক

১ বছরে বাংলাদেশে করোনায় মারা গেছেন ৪৪ সাংবাদিক

এক বছরে বিশ্বে ৬৮টি দেশে চলমান করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) মহামারিতে কমপক্ষে ৮৪০ জন সাংবাদিকের মৃত্যু হয়েছে। …