পবিত্র মাহে রমজানের বার্তা নিয়ে আবার ফিরে এল রজব মাস – ABNWorld
ঢাকা । মঙ্গলবার, ২ মার্চ, ২০২১, ১৭ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১৮ই রজব, ১৪৪২ হিজরি
হোম / ঈমান-আমল / পবিত্র মাহে রমজানের বার্তা নিয়ে আবার ফিরে এল রজব মাস

পবিত্র মাহে রমজানের বার্তা নিয়ে আবার ফিরে এল রজব মাস

পবিত্র মাহে রমজানের বার্তা নিয়ে আবার ফিরে এল রজব মাস

পবিত্র মাহে রমজানের বার্তা নিয়ে বছর ঘুরে আবার ফিরে এল রজব সাস। মহান রাব্বুল আল আমিনের দয়া ও করুণা যে, তিনি মহামারি করোনার মাঝেও মুসলিম উম্মাহকে পবিত্র রজব মাসের দ্বারপ্রান্তে উপনীত করেছেন। শনিবার সন্ধ্যায় শুরু হয়ে গেছে আরবি চান্দ্রবর্ষের সপ্তম মাস ‘রজব’। এটি নাম ও অর্থগতভাবেই প্রাচুর্যময় একটি সম্মানিত মাস। এই মাসের মর্যাদা উপলব্দি করতে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের একটি হাদিস খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেছেন, যে ব্যক্তি রজব মাসে (ইবাদত দ্বারা অন্তরের) জমিন চাষাবাদ করল না আর শাবান মাসে (ইবাদতের মাধ্যমে মনের) জমিন আগাছামুক্ত করল না; সে রমজান মাসে (ইবাদতের) ফসল তুলতে পারবে না (বায়হাকি)।
রজব মাসটির পুরো নাম ‘রজবুল মুরাজ্জাব’ বা ‘আর-রজব আল-মুরাজ্জাব’ হলেও এটি রজব মাস নামেই বেশি পরিচিত। মাসটির অর্থগত তাৎপর্যও রয়েছে। ‘রজব’ শব্দের অর্থ হলো সম্ভ্রান্ত, মহান বা প্রাচুর্যময়। আর ‘মুরাজ্জাব’ অর্থ ‘সম্মানিত’। সুতরাং এর অর্থ দাঁড়ায় ‘প্রাচুর্যময় সম্মানিত মাস’।
মর্যাদার এ মাসটিকে মহান আল্লাহ তাআলা যাবতীয় যুদ্ধবিগ্রহ, হানাহানি ও রক্তপাত নিষিদ্ধ করে দিয়েছেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, আল্লাহ তাআলার আসমান-জমিন সৃষ্টি করার দিন থেকেই ১২ মাসে বৎসর হয়। এর মধ্যে ৪টি মাস সম্মানিত; ৩টি একাধারে জিলকদ, জিলহজ ও মহররম এবং চতুর্থটি হল ‘রজব মুদার’ যা জমাদিউল আখিরা ও শাবানের মধ্যবর্তী মাস’ (মুসলিম)।
পরম মর্যাদার এই মাসটি মুমিন মুসলমানের ইবাদতের মাস। বরকত লাভের মাস। কেননা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোমড়ে কাপড় বেঁধে এ মাসের ইবাদত-বন্দেগিতে নিয়োজিত হতেন। রোজা রাখতেন এবং বেশি বেশি বরকত পেতে দোয়া পড়তেন; তাঁর উম্মতকেও দোয়া পড়তে বলতেন। তা হল, আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফি রাজাবা ওয়া শাবানা ওয়া বাল্লিগনা রামাদান। অর্থ- হে আল্লাহ! রজব ও শাবান মাস আমাদের জন্য বরকতময় করুন; রমজান মাস আমাদের নসিব করুন (বুখারি ও মুসলিম)।
‘রজব মুদার’ বা বহুবিদ কল্যাণের সম্মিলন হয় এই মাস। রমজানের আগে নিজেদের আমল ও ইবাদতের জন্য উপযোগী করে তোলার জন্য গুরুত্বপূর্ণ মাসও রজব। তাছাড়া রজব ও শাবান হল পাশাপাশি দুটি জোড়া মাস। মাস দুটিকে একত্রে রজবান বা রাজাবাইনও বলা হয়। তাই বেশি বেশি ইবাদত-বন্দেগি, দোয়া-ইসতেগফার ও রোজা রাখার মত আমল ইবাদত করে এই ২ মাসে নিজেদের প্রস্তুত করার উপযুক্ত সময়।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রজব মাস জুড়ে অত্যাধিক আমল-ইবাদত করতেন, রোজা রাখতেন। দোয়া পড়তেন। রমজানের জন্য নিজেকে তৈরি করতে, নিজের মন-মানসিকতাকে পরিচ্ছন্ন করতে এ মাসে বেশি বেশি ইবাদত-বন্দেগি করতেন। হাদিসের একাধিক বর্ণনায় তা ওঠে এসেছে, প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেন, যে ব্যক্তি রজব মাসে (ইবাদত দ্বারা) জমি চাষাবাদ করল না আর শাবান মাসে (ইবাদতের মাধ্যমে) জমি আগাছামুক্ত করল না; সে রমজান মাসে (ইবাদতের) ফসল তুলতে পারবে না (বায়হাকি)।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, রজব হল আল্লাহর মাস, শাবান হল আমার মাস; রমজান হল আমার উম্মতের মাস (তিরমিজি)। রজব ও শাবান মাসে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কী পরিমাণ ইবাদত-বন্দগি করতেন; তা উম্মাহাতুল মুমিনিনদের বর্ণনা থেকেই সুস্পষ্ট। হাদিসে এসেছে, হজরত উম্মে সালমা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমজান মাস ছাড়া সবচেয়ে বেশি রোজা পালন করতেন শাবান মাসে, অতপর রজব মাসে।
হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, যখন রজব মাস আসত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আমলের আধিক্য দেখেই আমরা তা বুঝতে পারতাম। কোন কোন বর্ণনায় এসেছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রজব মাসে ১০টি রোজা রাখতেন, শাবান মাসে ২০টি রোজা রাখতেন; রমজান মাসে ৩০টি রোজা রাখতেন (দারিমি)।
রজব মাসের বিশেষ আমলসমূহের মধ্যে অন্যতম হল বেশি বেশি নফল রোজা রাখা। মাস জুড়ে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিয়মিত আমল, সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোজা পালন করা। তাছাড়া শুক্রবারসহ রজব মাসের ১, ১০; ১৩, ১৪, ১৫; ২০, ২৯ এবং ৩০ তারিখ রোজা পালন করা। এছাড়াও পুরো মাস জুড়ে বেশি বেশি নফল নামাজ পড়া। বিশেষ করে তাহাজ্জুদ, ইশরাক, চাশত-দোহা, জাওয়াল, আউয়াবিন; তাহিয়্যাতুল অজু, দুখুলুল মাসজিদ ইত্যাদি নামাজের ব্যাপারে যযত্নবান হওয়া খুবই জরুরি। সাহাবায়ে কেরামও এ মাসের ইবাদত ও ফজিলত বর্ণনা করেছেন।
হজরত সালমান ফারসি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিস থেকে জানা যায়, রজব মাসের প্রথম তারিখে ১০ রাকাত নফল নামাজ পড়তে হয়। আর হজরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, অতি মহান (মর্যাদার) ৪টি রাত হল, রজব মাসের প্রথম রাত; শাবান মাসের মধ্য দিবসের রাত (শবে বরাত); শাওয়াল মাসের প্রথম রাত (ঈদুল ফিতর বা রমজানের ঈদের রাত); জিলহজ মাসের দশম রাত (ঈদুল আজহা বা কোরবানি ঈদের রাত)।
সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত, রজব মাসের মর্যাদা, ফজিলত ও আমলের প্রতি বিশেষ খেয়াল রাখা। হাদিসের ওপর যথাযথ আমল করা। রমজানের পরিপূর্ণ ইবাদতের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা। আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে রজবের মাসের ফজিলত, মর্যাদা ও আমলের প্রতি গুরুত্বারোপ করার তাওফিক দান করুন। মাসজুড়ে হাদিসে বর্ণিত দোয়াটি বেশি বেশি পড়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

এবিএনওয়ার্ল্ড/আলিফ

চেক করুন

করোনা টিকার প্রথম ডোজ নিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি

করোনা টিকার প্রথম ডোজ নিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ মোদি করোনাভাইরাসের টিকার প্রথম ডোজ গ্রহণ করেছেন। স্থানীয় সময় সোমবার সকালে দিল্লির …

‘বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করবে ভারত’

‘বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করবে ভারত’

বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারতেও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম …