বাংলাদেশ ও ভারতের দীর্ঘ সীমান্ত : অসীম সংগ্রাম – ABNWorld
ঢাকা । শুক্রবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২১, ৩রা বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৪ঠা রমজান, ১৪৪২ হিজরি
হোম / মতামত / বাংলাদেশ ও ভারতের দীর্ঘ সীমান্ত : অসীম সংগ্রাম

বাংলাদেশ ও ভারতের দীর্ঘ সীমান্ত : অসীম সংগ্রাম

বাংলাদেশ ও ভারতের দীর্ঘ সীমান্ত : অসীম সংগ্রাম

বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্ত বিশ্বের পঞ্চম দীর্ঘতম সীমান্ত; যা ইঙ্গিত দেয় সুরক্ষা এবং নিরাপত্তার। দুটি সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি এবং বিএসএফ এই সীমান্তের শান্তিপূর্ণ অবস্থা নিশ্চিত করে আসছে। তবে বাংলাদেশ এবং ভারতের সীমান্ত বিশ্বের সবচেয়ে জটিল সীমান্ত হিসেবে পরিচিত। এই সীমানা অবারিত এবং অনেকটা বিপজ্জনকভাবেই। উভয় দেশের মধ্যে ৪,০৫৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমানা নদী ও জলাভূমি থেকে শুরু করে কৃষিজমি এবং কিছু জায়গায় মানুষের বসতবাড়ির মধ্যদিয়ে গেছে। প্রাকৃতিক পরিবেশকে সীমান্তের সুরক্ষার চেয়ে বেশি গুরুত্ব সীমান্তের কেবলমাত্র একটি অংশ কাঁটাতারের বেড়াযুক্ত রাখা হয়েছে। মানুষ বাংলাদেশ থেকে ভারতীয় ভূখণ্ডকে পৃথককারী মূল সীমান্ত- জিরো পয়েন্টের পরিবর্তে প্রকৃত সীমানা হিসেবে বেড়াগুলোকে ভুল বুঝে। তাছাড়া উভয় দেশের সাংস্কৃতিক এবং জাতিগত মিল সীমান্ত কর্মীদের জন্য একটি অতিরিক্ত চ্যালেঞ্জ।
গত ৩ বছরে দেড় হাজারের বেশি সীমানা বেড়া অতিক্রমের ঘটনা রেকর্ড হয়েছে। রাতের গাঢ় অন্ধকারে চোরাকারবারী এবং অপরাধীরা অবৈধভাবে প্রতিবেশী দেশের সীমানায় প্রবেশ করে। এ জাতীয় সব ঘটনা মধ্যরাতের পরে ঘটে। ফলে সমস্ত সীমান্ত হত্যা সংঘটিত হয়েছে রাত ১২টা থেকে ভোর ৪টার মধ্যে। কখনও কখনও সংঘর্ষে প্রাণহানি ঘটে এবং নিরাপত্তা কর্মীরাও আহত হন। গত এক দশকে সংঘর্ষে কমপক্ষে ১৭ জন বিএসএফ সদস্য শহীদ এবং ১,১০০ জনেরও বেশি আহত হয়েছে। জিরো লাইনের দেড়শ গজ ছাড়িয়ে এ জাতীয় বেশিরভাগ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। অপরাধীদের কখনও কখনও অন্য দেশের সীমানার এক থেকে ৪ কিলোমিটার অভ্যন্তরে দেখা গেছে যা মানুষের ঘরবাড়ি এবং জীবিকার জন্য হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সুতরাং সীমান্ত হত্যাকে যথাযথভাবে বললে ‘সীমান্তের ভিতরে হত্যা’ বলা যেতে পারে।
বাংলাদেশ এবং ভারত উভয় সরকারই সীমান্তে টহল সক্ষমতা জোরদার করছে। প্রকৃতপক্ষেই বিএসএফ এবং বিজিবি উভয় বাহিনীরই উন্নত আইন প্রয়োগের কারণে সীমান্তে মানব পাচার, চোরাচালান ও অপরাধমূলক ক্রিয়াকলাপের ঘটনা প্রতিটি সূচকেই উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। বিভিন্ন ধরণের ভূখণ্ডের কারণে সীমান্তে নিয়ন্ত্রণের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হওয়া সত্ত্বেও, পূর্বে প্রচলিত জনপ্রিয় ক্রসিং পয়েন্টগুলি অনস্বীকার্য উন্নতি করেছে। সীমান্তে অপরাধমূলক ক্রিয়াকলাপ হ্রাস পেয়ে মাদকের চালান আটক, জনবল এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে সমস্যার মাত্রা সুদূরপ্রসারী। উদাহরণস্বরূপ, ইউএস-মেক্সিকো সীমান্তে উঁচু দেয়াল, উন্নততর প্রযুক্তি, ড্রোন এবং ওভারহেড হেলিকপ্টার থাকা সত্ত্বেও সীমান্ত লঙ্ঘন করা হয়েছে। সবসময় এমন কয়েকটি অঞ্চল থাকবে যেখানে বেড়া দেয়া অসম্ভব এবং নিরাপত্তা রক্ষা করা কঠিন।
সীমান্ত টহলকর্মীরা বলেছেন, তারা তাদের সর্বোচ্চ প্রয়াস করছেন। বাংলাদেশ ও ভারত ইতোমধ্যেই একটি অ-প্রাণঘাতী অস্ত্র নীতি অনুসরণ করে। বিএসএফ এবং বিজিবির দ্বারা গোয়েন্দা তথ্য ভাগাভাগি ও যৌথ টহল আগের চেয়ে ভাল। সম্প্রতি সকল নিরস্ত্র ও নিরীহ সীমান্ত অতিক্রমকারীদের বিজিবির হাতে তুলে দিয়েছে বিএসএফ। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর থেকে এ ধরনের ৬০ জন নিরাপদে দেশে ফিরে এসেছেন।
জীবিকা নির্বাহ, ব্যবসা এবং দর্শনীয় স্থানে ভ্রমণের জন্য প্রতিদিন অনেক মানুষ আইন সঙ্গতভাবে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত অতিক্রম করে। প্রকৃতপক্ষে ভারতে পর্যটকদের একটি বড় অংশ বাংলাদেশী যারা স্থল সীমান্ত দিয়ে ভারতে যায়। অপরাধমূলক ক্রিয়াকলাপ কেবলমাত্র এই মানুষে-মানুষে যোগাযোগকে ক্ষতিগ্রস্থ করে।
প্রশ্ন থেকেই যায়, একটি সুরক্ষিত সীমানা বলতে কী বোঝায়? ১১১টি সীমান্ত জেলায় বসবাসকারী কয়েক মিলিয়ন মানুষের জন্য এর মানে হলো নিরাপদ আশ্রয় এবং তাদের জীবিকা নির্বাহের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, যা সীমান্তরক্ষী বাহিনী করে থাকে। ভারত ও বাংলাদেশের সীমান্ত অঞ্চলের অব্যাহত অর্থনৈতিক বিকাশ এবং সীমান্তবর্তী গ্রামগুলিতে যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমান্তে বসবাসকারী মানুষের জন্য আশার আলো দেখাতে পারে। – তথ্য সূত্র : ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশন

চেক করুন

সিটি স্ক্যান করেছেন খালেদা জিয়া : চিকিৎসা চলবে বাসায়

সিটি স্ক্যান করেছেন খালেদা জিয়া : চিকিৎসা চলবে বাসায়

প্রাণঘাতী নভেল করোনাভাইরাস মহামারীতে আক্রান্ত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সিটি স্ক্যান করা হয়েছে। এর …

আজকের ইফতার ৬টা ২৪ ও আগামীকাল সাহরি শেষ ৪টা ১২ মিনিটে

আজকের ইফতার ৬টা ২৪ ও আগামীকাল সাহরি শেষ ৪টা ১২ মিনিটে

বছর ঘুরে রহমত, মাগফিরাত আর নাজাতের সওগাত নিয়ে আবারও ফিরে এল পবিত্র মাহে রমজান। খোশ …