বিশ্বকাপ : বাংলাদেশের অর্জন বনাম হতাশা-ব্যর্থতা… - all-banglanews
ঢাকা। রবিবার, ৬ শ্রাবণ, ১৪২৬; ২১ জুলাই, ২০১৯; ১৬ জিলক্বদ, ১৪৪০
হোম / খেলাধুলা / বিশ্বকাপ : বাংলাদেশের অর্জন বনাম হতাশা-ব্যর্থতা…

বিশ্বকাপ : বাংলাদেশের অর্জন বনাম হতাশা-ব্যর্থতা…

শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ডে দ্বাদশ বিশ্বকাপের পয়েন্ট টেবিলের তলানির দিকে থেকে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল এবার তাদের মিশন শেষ করেছে চিরশত্রু পাকিস্তানের বিপক্ষে বাজেভাবে হেরে। এর পরও এই ম্যাচ শেষে পয়েন্ট টেবিলে তাদের অবস্থান ৭। তবে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকা জিতলে বাংলাদেশের ৮এ নামার শঙ্কাও আছে। তবে ৭ হোক বা ৮, পয়েন্ট টেবিলে অবস্থান যাই হোক, বেশ কিছু ইতিবাচক দিকের পরও বাংলাদেশের বিশ্বকাপ অভিযানকে মোটা দাগে ব্যর্থই বলতে হবে। অবশ্য গত ৪ বছরে বাংলাদেশের ক্রিকেটকে নতুন উচ্চতায় তুলেছে এই দলটি। ২০১৫ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনাল হয়ে ২০১৭ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমি-ফাইনাল, ২০১৮ এশিয়া কাপের ফাইনাল খেলেছে দল। দেশের মাটিতে এসেছে একের পর এক সিরিজ জয়ের সাফল্য। দেশের বাইরেও এসেছে জয়, সিরিজ জয়। সাফল্যের পথ ধরেই এগিয়ে গেছে দল। সেই সাফল্যই স্বপ্ন দেখিয়েছে বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের। ক্রিকেটারদের চোখেই স্বপ্ন দেখেছে সমর্থকরা। আস্থা রেখেছে সামর্থ্যে। পূরণ হলো না সেই স্বপ্ন।
স্বপ্ন পূরণ না হওয়া মানে অবশ্যই ব্যর্থতা নয়। কিন্তু বাংলাদেশের বিশ্বকাপ অভিযানকে ব্যর্থ বলা যায়, লক্ষ্যটুকু পূরণ করতে না পারায়। সামর্থ্যের পুরোটা দেখাতে না পারায়। পয়েন্ট টেবিলের তলানির ভাগে থাকায়। দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে দারুণভাবে শুরু করা বিশ্বকাপে বাংলাদেশ এরপর হারাতে পেরেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও আফগানিস্তানকে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচটিতে জয় ছিল প্রত্যাশিত, ভেসে গেছে বৃষ্টিতে। সেটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে ছিল না। কিন্তু পাকিস্তানকে হারানোর সুযোগ ছিল নিজেদের হাতেই। সেটি পারেনি দল। তবে পাকিস্তানকে হারালে পয়েন্ট তালিকার ৫এ থাকার সুযোগ ছিল। ইংল্যান্ডের কন্ডিশনে লম্বা ফরম্যাটের বিশ্বকাপে ৫এ থাকতে পারা র‌্যাঙ্কিংয়ের ৭ নম্বর দলের জন্য যথেষ্ট ভাল ফলই হয়তো হত। অন্তত নিজেদের কাজটুকু করার স্বস্তি থাকত।
অবশ্য এই আসর থেকে প্রাপ্তি আছে বেশ কিছু। সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি অবশ্যই সাকিব আল হাসানের অতিমানবীয় পারফরম্যান্স। আরও বেশ কয়েক বছর আগে থেকেই তিনি বলা যায় বাংলাদেশের সবসময়ের সেরা ক্রিকেটার। গত ১০ বছর ধরে বেশির ভাগ সময় ছিলেন র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ অলরাউন্ডার। কিন্তু বিশ্ব আসরে নিজের শ্রেষ্ঠত্বে ছাপ রাখার ব্যাপার হয়তো ছিল। সাকিব যেভাবে পারলেন, সেটি অনেকের কল্পনাকেও হয়তো ছাড়িয়ে গেছে। একজনের কাছ থেকে এমন অসাধারণ অলরাউন্ড পারফরম্যান্স বিশ্বকাপ আর দেখেনি।
বিশ্বকাপে শেষ ম্যাচটির আগে মোটামুটি ধারাবাহিকভাবে ভালো ব্যাটিং করে গেছে দল। নিজেদের সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড ছাড়িয়েছে দুবার। গড়েছে রান তাড়ার রেকর্ড। বিরুদ্ধ কন্ডিশনে সত্যিকারের বিশ্বমানের দলগুলির সাথে অন্তত ব্যাটিং দিয়ে পাল্লা দেয়ার নিদর্শন দল রাখতে পেরেছে। কিন্তু বোলিং, বিশেষ করে নতুন বলের বোলিং দলকে ভুগিয়েছে প্রবলভাবে। অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা নিজেকে হারিয়ে খুঁজেছেন টুর্নামেন্ট জুড়ে। বাংলাদেশের সফলতম ওয়ানডে বোলারের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে দীর্ঘ উইকেটখরা এসেছে এই টুর্নামেন্টেই। ২ পায়ে হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট নিয়ে চেষ্টা করে গেছেন ম্যাচের পর ম্যাচ, কিন্তু এবার আর চোট জয়ের গল্প রচনা করতে পারেননি।
কাটার মাস্টার খ্যাত মুস্তাফিজুর রহমান টুর্নামেন্টে ২০ উইকেট নিলেও নতুন বলে উইকেট নেই একটিও। প্রথম স্পেলে ছিলেন বরাবরই ধারহীন। সাইফ উদ্দিন নিয়মিত উইকেট নিলেও রান দিয়েছেন প্রচুর। রুবেল হোসেন বাইরে বসে থাকায় আলোচনা হয়েছে প্রচুর। প্রথম সুযোগে ৯ ওভারে ৮৩ রান দেয়ার পর আর জোর দাবি জানাতে পারেননি। সাকিব ও মিরাজের স্পিন অবশ্য ছিল বেশ কার্যকর। কিন্তু পেসারদের ধারহীন বোলিংয়ে স্পিনাররাও খুব প্রভাব ফেলতে পারেননি। তবে বাংলাদেশ দলে কোন গতিময় পেসার নেই, উইকেটশিকারি স্পিনার বা লেগ স্পিনার নেই, এই বাস্তবতা জেনেই ইংল্যান্ডে এসেছিল দল। কাজটা কঠিন, জানাই ছিল। কিন্তু নিজেদের সামর্থ্যের পুরোটা দেখাতে না পারাই হতাশার।
তার আগে ২০০৭, ২০১১ ও ২০১৫ বিশ্বকাপেও ৩টি করে ম্যাচ জিতেছিল বাংলাদেশ। তবে ২০০৭ সালের সাফল্যে কাঁটা হয়ে আছে আয়ারল্যান্ডের কাছে হার, ২০১১ সালে আছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৫৮ ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৭৮ রানে অলআউট হওয়ার যন্ত্রণা। ২০১৫ বিশ্বকাপে ৩ জয়ের দুটি স্কটল্যান্ড ও আফগানিস্তানের বিপক্ষে। এবার সেদিক থেকে পুরো টুর্নামেন্ট বিচার করলে হয়তো বাংলাদেশের সবচেয়ে ধারাবাহিক বিশ্বকাপ। কিন্তু শুধু এই আসরের বাস্তবতায় প্রাপ্তির চেয়ে অপ্রাপ্তিই বেশি। মাশরাফি স্বীকার করলেন, হতাশার যথেষ্ট কারণ আছে। তবে একবারেই ব্যর্থ অভিযান বলতে চান না তিনি।
অধিনায়ক বলেন, আজকের ম্যাচ জিতলে হয়তো ৫এ থাকতে পারতাম। হেরে যাওয়ায় ৭-৮এ। হয়তো একটু যদি-কিন্তু, এদিক-সেদিক হলে অন্যরকম হতো। ৫এ যাওয়ার সুযোগ ছিল। তবে ৭এ গেলেই যে খুব হতাশ বা সফল নই, সেটাও পুরোপুরি বলা যাবে না। এখান থেকে ইতিবাচকভাবে নেয়ার অনেক কিছু আছে। হয়তো আমরা আপসেট, আপনারা আপসেট, দর্শক আপসেট। ইতিবাচক দিক হয়তো বের করা কঠিন। তবে সাকিবের অভাবনীয় পারফরম্যান্সের পর দল সেমিফাইনালে না ওঠা হতাশার, সেটি মানছেন অধিনায়ক।
ম্যাশ বলেন, খারাপ লাগছে সাকিবের জন্য। এরকম পারফরম্যান্সের পর তার দল সেমিফাইনাল খেলবে, এটিই প্রত্যাশিত। অন্যরা যারা রান করেছে বা উইকেট নিয়েছে, হয়তো সময়মতো করতে পারেনি বা প্রয়োজনের সময় হয়নি। এটা হতাশার। এই হতাশার আঁধারকে পাশে রেখেও নতুন দিনের আলো দেখতে পাচ্ছেন অধিনায়ক। পরের বিশ্বকাপে তিনি থাকবেন না, তবে উজ্জ্বল সম্ভাবনা দেখছেন দলের।

এবিএনওয়ার্ল্ড/আলিফ/রোজা

চেক করুন

‘তিনি ফিরে আসবেন এবং সেটা প্রমাণ করবেন’

‘তিনি ফিরে আসবেন এবং সেটা প্রমাণ করবেন’

সংখ্যালঘুদের নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে করা অভিযোগ প্রমাণ করতে না পারলে বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান …

প্রবীণ কংগ্রেস নেত্রী শীলা দীক্ষিত মারা গেছেন

প্রবীণ কংগ্রেস নেত্রী শীলা দীক্ষিত মারা গেছেন

প্রবীণ কংগ্রেস নেত্রী ও দিল্লীর তিন বারের মুখ্যমন্ত্রী শীলা দীক্ষিত আজ শনিবার বিকেলে দিল্লীর একটি …