বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস আগামীকাল – ABNWorld
ঢাকা । রবিবার, ৫ জুলাই, ২০২০, ২১শে আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১৪ই জিলক্বদ, ১৪৪১ হিজরী
হোম / অর্থনীতি / বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস আগামীকাল

বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস আগামীকাল

বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস আগামীকাল

আগামীকাল রবিবার বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস। দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন তামাকবিরোধী সংগঠন স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এ বছর বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস উদযাপিত হচ্ছে, ‘তামাক কোম্পানির কূটচাল রুখে দাও- তামাক ও নিকোটিন থেকে তরুণদের বাঁচাও’ এই প্রতিপাদ্য নিয়ে। তামাক বিরোধী সংগঠনগুলো বলেছে, বছরের পর বছর ধরে তামাক এবং অন্যান্য নিকোটিন পণ্যে শিশু-কিশোর এবং তরুণদের আকৃষ্ট করতে অত্যন্ত কৌশলী এবং আগ্রাসী প্রচারণা চালিয়ে আসছে তামাক কোম্পানিগুলো।
তামাকের কারণে প্রতিবছর বিশ্বে ৮০ লাখ মানুষ প্রাণ হারায়। শুধু বাংলাদেশেই বছরে ১ লক্ষ ২৬ হাজার মানুষ মারা যায় তামাক ব্যবহারজনিত রোগে। তামাক কোম্পানির কাছে এই মৃত্যুর অর্থ তাদের ভোক্তা হারানো এবং শূণ্যতা পূরণে তারা টার্গেট করে শিশু-কিশোর ও তরুণদের। তামাক এবং নিকোটিনযুক্ত পণ্যে আকৃষ্ট করতে ইচ্ছাকৃতভাবে নানা কারসাজির আশ্রয় নেয় কোম্পানিগুলো।
ইউএস সার্জন জেনারেল রিপোর্ট ২০১৪ অনুযায়ী, প্রায় ৯০ শতাংশ সিগারেট ধূমপায়ী ১৮ বছর বয়সের মধ্যে প্রথমবার ধূমপান করে। অল্প বয়সে তামাকপণ্যে আসক্ত হয়ে পড়লে ফুসফুসের কার্যক্ষমতা হ্রাস পেতে থাকে এবং বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে ফুসফুসের স্বাভাবিক বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হয়।
এছাড়াও ফুসফুস ক্যান্সার, হৃদরোগ, অকাল বার্ধক্য, মানসিক অস্থিতিশীলতাসহ নানাবিধ রোগ সৃষ্টি হয় তামাকের কারণে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য মতে, যারা কিশোর বয়সে ধূমপানে আসক্ত হয়, তাদের এলকোহলে আসক্ত হয়ে পড়ার সম্ভাবনা স্বাভাবিকের তুলনায় তিন গুণ বেশি, গাঁজায় (মারিজুয়ানা) আট গুণ এবং কোকেইনের ক্ষেত্রে ২২ গুণ বেশি। অর্থাৎ তামাক ও নিকোটিন কেবল একটি আসক্তিই নয়, এটি তরুণদের আরো অনেক বিধ্বংসী আসক্তির পথে পরিচালিত করে।
তামাকবিরোধী সংগঠন প্রজ্ঞা’র (প্রগতির জন্য জ্ঞান) নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের বলেন, বাংলাদেশে বর্তমান মোট জনগোষ্ঠির ৪৯ শতাংশই তরুণ। তামাক কোম্পানির মুল টার্গেট কিভাবে এই বিশাল তরুণ সমাজকে তামাকে আসক্ত করে ব্যবসা বাড়ানো যায়। তিনি বলেন, এক্ষেত্রে রাষ্ট্রের করণীয় হবে তামাক কোম্পানির ছোবল থেকে তরুণদের সুরক্ষা প্রদান করা। কারণ তামাকাসক্ত অসুস্থ প্রজন্ম দেশের অগ্রগতির হাতিয়ার না হয়ে বরং সমাজ ও অর্থনীতির জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়াবে।
এদিকে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন ধূমপান, তামাক ও ভ্যাপিং পণ্য ব্যবহারে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। মানুষের জীবন বাঁচানোর পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও ২০৪০ সালের মধ্যে তামাকমুক্ত বাংলাদেশ অর্জনের পথ সুগমে তামাকপণ্য নিয়ন্ত্রণ এবং তামাক কোম্পানির সকল কারসাজি বন্ধে সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
এক্ষেত্রে কর ও মূল্য পদক্ষেপের মাধ্যমে তামাকপণ্যের দাম বৃদ্ধি, তামাক কোম্পানির হস্তক্ষেপ মোকাবেলায় খসড়া এফসিটিসি আর্টিক্যাল ৫.৩ নীতিমালা চূড়ান্তকরণ ও বাস্তবায়ন, তামাকপণ্যের মোড়কে আইন অনুযায়ী সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা মুদ্রণ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তামাক কোম্পানির পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত যেকোন ধরনের অনুষ্ঠান নিষিদ্ধ এবং তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন করে বিক্রয়স্থলে প্রোডাক্ট ডিসপ্লের মাধ্যমে তামাকপণ্যের প্রচার বন্ধ এবং পাবলিক প্লেসে ও পরিবহনে ‘ধূমপানের জন্য নির্ধারিত স্থান’ বিলুপ্ত করার উপর গুরুত্বারোপ করেছে তামাক বিরোধী সংগঠন গুলো।

এবিএনওয়ার্ল্ড/এফআর

চেক করুন

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিসব : ট্রাম্পকে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিসব : ট্রাম্পকে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা ঘোষণার ২৪৪তম বাষির্কী উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা …

পর্যায়ক্রমে শ্রমিকদের ঈদের ছুটি দেয়ার আহবান ওবায়দুল কাদেরের

পর্যায়ক্রমে শ্রমিকদের ঈদের ছুটি দেয়ার আহবান ওবায়দুল কাদেরের

চলমান করোনাভাইরাসের সংক্রমণের বিস্তাররোধে তৈরি পোশাক শিল্প ও অন্যান্য শিল্প সমূহ ঈদের আগে পর্যায়ক্রমে ছুটি …