মোদি সরকারের বিরুদ্ধে ভারত জুড়ে কৃষক বিক্ষোভ – ABNWorld
ঢাকা । শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২০, ৮ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৭ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪২ হিজরি
হোম / আন্তর্জাতিক / মোদি সরকারের বিরুদ্ধে ভারত জুড়ে কৃষক বিক্ষোভ

মোদি সরকারের বিরুদ্ধে ভারত জুড়ে কৃষক বিক্ষোভ

মোদি সরকারের বিরুদ্ধে ভারত জুড়ে কৃষক বিক্ষোভ

মোদি সরকারের কৃষি বিলের প্রতিবাদে কৃষক সংগঠনগুলোর ডাকা ভারত বনেধ ব্যাপক সাড়া মিলেছে। গতকাল শুক্রবার থেকে পাঞ্জাব ও হরিয়ানা ছাড়াও কর্ণাটক, বিহার, উত্তর প্রদেশ, মহারাষ্ট্রসহ দেশের বেশ কয়েকটি রাজ্যে রেল রোকো (অবরোধ) ও রাস্তা রোকো কর্মসূচি শুরু হয়েছে। ফলে জনজীবনে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। অমৃতসর-দিল্লি জাতীয় সড়ক অবরোধের ফলে পুরোপুরি বন্ধ। একই অবস্থা কর্ণাটক-তামিলনাড়ুর মধ্যে যোগাযোগকারী জাতীয় সড়কেও।
কৃষকদের অবরোধের ফলে লখনৌ-অযোধ্যা জাতীয় সড়কেও বিশাল যানজট দেখা দেয়। বিহারে কৃষকদের পাশাপাশি আরজেডিও বিক্ষোভে শামিল হয়েছে। লালু প্রসাদ যাদবের ছেলে তেজস্বী যাদব ট্র্যাক্টর নিয়ে রাস্তায় নামেন। ভারত বনেধ ওপরের রাজ্যগুলো ছাড়াও অনেক রাজ্যেই কৃষকরা বিলের প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছেন এবং রেললাইন অবরোধ করেছেন। পাঞ্জাবে কংগ্রেস, অকালি এবং আম আদমি পার্টি কৃষকদের আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী অমরিন্দর সিং ঘোষণা করেছেন, আন্দোলনকারীরা ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করলেও পুলিশ এফআইআর করবে না। পাঞ্জাবে কৃষক সংগঠনের নেতারা আগামী ১ অক্টোবর থেকে লাগাতার সড়ক অবরোধের ডাক দিয়েছেন। পাঞ্জাব ও হরিয়ানাও একপ্রকার স্থবির হয়ে আছে।
কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বলেছেন, এই অন্যায় মেনে নেওয়া হবে না। মোদি সরকার কৃষকদের বড় করপোরেটের দাসে পরিণত করতে চাইছে। তাদের নিজ জমিতে তারা দাস হয়ে পড়বেন। তাদের সম্মান ও অধিকার দুটোই যাবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দিল্লি ও উত্তর প্রদেশের সীমানায় প্রচুর পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
বিহারে আরজেডি ও কংগ্রেস কর্মীরা পাটনা, দ্বারভাঙ্গাসহ বেশ কয়েকটি জায়গায় প্রতিবাদ জানিয়েছে। রাস্তায় গরু, মহিষ নিয়ে এসে অবরোধ করা হয়েছে। দক্ষিণের রাজ্যগুলোতেও কৃষকরা পথে নেমেছেন।
প্রসঙ্গত সম্প্রতি দুইটি বিল রাজ্যসভায় পাস করিয়েছে সরকার। একটা বাকি আছে। ভারতের আইনে কিছু কৃষি পণ্যের মজুত করার ওপর একটা সীমা ছিল। কারণ মনে করা হতো, এই সীমা না থাকলে মজুতদারদের লাভ হবে। এবার একটি বিলে মোদি সরকার সেই সীমা তুলে নিয়েছে। কৃষকরা বলছেন, এর ফলে ব্যবসায়ীরা জিনিস মজুত করতে পারবে। যখন দাম বেশি থাকবে, তখন তারা বেশি লাভ করবে। দাম কম থাকলে তারা জিনিস কিনবে, ফলে কৃষকদের ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। আর যে সংস্থা বিদেশে খাদ্যশস্য রপ্তানি করে, তাদের ওপর কখনোই বিধিনিষেধ চাপানো হবে না। ফলে বড় সংস্থা ও করপোরেট পক্ষ এর সুবিধা পাবে।
আরেকটি বিলে কৃষকদের চুক্তি চাষের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। মানে ফসল বোনার আগে কোনো কোম্পানির সঙ্গে কৃষক চুক্তি করে নেবে, ফসল কত টাকায় বিক্রি করবে। তৃতীয় বিলে কৃষকদের যে কোনো বাজারে ফসল বিক্রির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সমালোচকদের মতে, প্রথমে কৃষকদের বেশি টাকার লোভ দেখিয়ে কিছু কোম্পানি মনোপলি বা একচেটিয়া ব্যবসা করে নেবে। তারপর দাম একেবারে কমিয়ে দেবে। ফলে কৃষকরা পথে বসতে পারেন। এই আশঙ্কার ফলেই কৃষকরা পথে নামছেন।

এবিএনওয়ার্ল্ড/এফআর

চেক করুন

নড়াইলে অবসরপ্রাপ্ত কলেজ শিক্ষককে গলাকেটে হত্যা

নড়াইলে অবসরপ্রাপ্ত কলেজ শিক্ষককে গলাকেটে হত্যা

নড়াইলের পল্লীতে একটি বেসরকারি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক অরুণ কুমার রায়কে নিজ বাড়িতে গলাকেটে হত্যা করেছে …

আজ মহাঅষ্টমী

আজ মহাঅষ্টমী

শ্রী শ্রী দুর্গা দেবীর নবপত্রিকা প্রবেশ স্থাপন সপ্তম্যাদি কল্পারম্ভের মধ্য দিয়ে আজ শেষ হয়েছে সপ্তমী …