শিক্ষিত জাতি ছাড়া সম্মানের সাথে কেউ বাঁচতে পারে না : প্রধানমন্ত্রী – ABNWorld
ঢাকা । বৃহস্পতিবার, ২৮ মে, ২০২০, ১৪ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৪ঠা শাওয়াল, ১৪৪১ হিজরী
হোম / ক্যাম্পাস / শিক্ষিত জাতি ছাড়া সম্মানের সাথে কেউ বাঁচতে পারে না : প্রধানমন্ত্রী

শিক্ষিত জাতি ছাড়া সম্মানের সাথে কেউ বাঁচতে পারে না : প্রধানমন্ত্রী

শিক্ষিত জাতি ছাড়া সম্মানের সাথে কেউ বাঁচতে পারে না : প্রধানমন্ত্রী
শিক্ষিত জাতি ছাড়া সম্মানের সাথে কেউ বাঁচতে পারে না : প্রধানমন্ত্রী

প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) এবং জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষায় যারা পাস করেছে, তাদের অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা শিক্ষাকে আরও আধুনিক, উন্নত এবং বিজ্ঞানসম্মত করতে চাই। শুধু সাধারণ শিক্ষা নয়, কারিগরি শিক্ষাকে আমরা গুরুত্ব দিতে চাই। যাতে একজন ছেলেমেয়ে কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে নিজেরা কিছু করতে পারে। আমরা কোনো সেশনজট রাখব না। বেঁধে দেয়া সময়ের আগেই ফল প্রকাশ করায় সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি পরীক্ষা সময়মতো হবে এবং ফলাফলও সময়মতো হবে। আমরা কোনো সেশনজট রাখব না। সেশনজট থাকলে ছেলেমেয়েদের পড়াশোনায় অমনোযোগ চলে আসে। তিনি আরও বলেন, শিক্ষিত জাতি ছাড়া সম্মানের সাথে কেউ বাঁচতে পারে না। বিশ্বে মাথা উঁচু করে বাঁচতে হলে সমাজকে সুশিক্ষিত করতে হবে।
আজ মঙ্গলবার সকালে গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পিইসি ও জেএসসি এবং জেডিসি পরীক্ষার ফলাফল হস্তান্তরকালে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসময় শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভালো ফলাফল করতে হলে আমাদের শিশুদের আরও মনোযোগী হতে হবে। ভবিষ্যতে যেন ফলাফল আরও ভালো হয়, সেজন্য মন দিয়ে লেখাপড়া করতে হবে। তিনি বলেন, শিক্ষকদের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় শিশুরা লেখাপড়ায় বেশ মনোযোগী। তাদের মেধা বিকাশে অভিভাবকদের ভূমিকাও অনেক। এছাড়া বিভিন্ন বোর্ডের চেয়ারম্যান নিজস্ব পদ্ধতিতে সফল পরীক্ষা গ্রহণ এবং ফলাফল প্রক্রিয়া শেষ করেছেন, তাদেরও ধন্যবাদ জানাই।
সরকার বিনামূল্যে শিক্ষার্থীদের বই দেয়াসহ বৃত্তি প্রদান করছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শিক্ষাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছেন। সংবিধানে শিক্ষার কথা বলা আছে গুরুত্বের সঙ্গে। বঙ্গবন্ধু আমাদের একটা স্বাধীন দেশ দিয়ে গেছেন। এই দেশটাকে আমরা আরও উন্নত করতে চাই। উন্নত এবং সমৃদ্ধশালী দেশ গড়তে হলে শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই । আমরা এমন একটি সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই যেখানে থাকবে না কোনো দরিদ্রতা, বৈষম্য। থাকবে উন্নত সমাজ ব্যবস্থা।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, শিক্ষাকে একেবারে আধুনিক করতে চাই। শিক্ষকদের প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে শিক্ষা দিতে হবে। শিশুদের প্রযুক্তির সাথে তাল মেলাতে হবে। আজকের শিশু আগামী দিনে সোনার ছেলে হবে। বড় বড় পদে কাজ করবে। তিনি বলেন, শিক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আমরা যেখানে স্কুল নেই, সেখানে স্কুল করে দিচ্ছি। যেখানে যেখানে প্রয়োজন, হিসেব হিসেব করে করে আমরা নতুন স্কুল করে দিচ্ছি। শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষকদের বেতনও বাড়িয়ে দিয়েছে। বিনামূল্যে বই দিচ্ছি। বৃত্তি দিচ্ছি। অনেক মা-বাবা খরচ চালাতে পারে না। তাই সরকারের পক্ষ থেকে সাহায্য দিচ্ছি। ঝরে পড়া কমাতে সাহায্যের পাশাপাশি বিভিন্ন সচেতনতার উদ্যোগ নিচ্ছি। এছাড়া জাতির পিতা মেয়েদের শিক্ষা অবৈতনিক করে দিয়েছিলেন। আমরা সেটার ধারাবাহিকতা রেখেছি।
তবে শুধু বইপড়া নয়, শিশুদের এর পাশাপাশি খেলাধুলা এবং কারিগরি শিক্ষাও নিতে হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আমরা খেলাধুলার প্রতি গুরুত্ব দিয়েছি। জায়গায় জায়গায় স্টেডিয়াম করে দিয়েছি। আরও করছি। খেলাধুলায় ভালও করছে শিশুরা। এরা অনেক মেধাবী। আমাদের থেকেও আজকের শিশুরা অনেক মেধাবী। আমাদের সময় এমন ছিল না। এরা ডিজিটাল বিষয়ে অনেক জানে।
শিশুদের নিজের সংস্কৃতি এবং ইতিহাস জানতে হবে বলেও উল্লেখ করেছেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আমরা শিশুদের কম্পিউটার শিক্ষার দিকে গুরুত্ব দিচ্ছি। কারিগরি শিক্ষায়ও তাদের গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ছোটবেলায় যাতে তারা কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত হতে পারে, সে দিকে আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি। যেন তাদের লুকিয়ে থাকা মেধা বিকশিত হয়।
প্রাথমিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেয়ার কারণে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সকল প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারিকরণ করেছিলেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরাও ২৬ হাজার প্রাথমিক স্কুলকে সরকারিকরণ করেছি। যেখানে স্কুল নেই সেখানে আমরা স্কুল করারও ব্যবস্থা করে দিচ্ছি। গরিব বাবা-মার ওপর যেন চাপ না পড়ে, সেজন্য আমরা বছরের শুরুতেই বই দিচ্ছি। পড়াশোনার পাশাপাশি ছেলেমেয়েদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সারাক্ষণ শুধু পড় পড় করলে ছোট ছেলেমেয়েদের ভালো লাগে না। খেলাধুলার মাধ্যমে ডিজিটাল পদ্ধতিতে তাদের লেখাপড়ার ব্যবস্থা করবেন। এখন আমরা সাড়ে ৩ হাজার ইউনিয়নে ব্রডব্যান্ড পৌঁছে দিয়েছি। মাল্টিমিডিয়া ক্লাস হচ্ছে। এই সমস্ত ক্লাসের মাধ্যমে তাদেরকে নতুন প্রযুক্তিতে শিক্ষা দিন।

এবিএনওয়ার্ল্ড/এফআর

চেক করুন

হোমিও ওষুধ হিসেবে এলকোহল বিক্রি : স্বামী-স্ত্রীসহ নিহত ৫

হোমিও ওষুধ হিসেবে এলকোহল বিক্রি : স্বামী-স্ত্রীসহ নিহত ৫

দিনাজপুরের বিরামপুরে হোমিওপ্যাথি’র ওষুধ হিসেবে বিক্রি করা বিষাক্ত এলকোহল পান করে স্বামী-স্ত্রীসহ ৫ জনের মৃত্যু …

সাধারণ ছুটি আর বাড়ছে না : অফিস আদালত খুলছে রবিবার

সাধারণ ছুটি আর বাড়ছে না : অফিস আদালত খুলছে রবিবার

বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী নভেল করোনাভাইরাস মহামারীর বিস্তার রোধে গত ২৬ মার্চ থেকে শুরু হওয়া …