শিশুর জন্য মায়ের বুকের দুধের বিকল্প নেই – ABNWorld
ঢাকা । বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২০, ২৬শে চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৫ই শাবান, ১৪৪১ হিজরী
হোম / লাইফস্টাইল / শিশুর জন্য মায়ের বুকের দুধের বিকল্প নেই

শিশুর জন্য মায়ের বুকের দুধের বিকল্প নেই

শিশুর জন্য মায়ের বুকের দুধের বিকল্প নেই

শিশুর পুষ্টি, জীবন ধারণ এবং শারীরিক বৃদ্ধির জন্য উপযুক্ত শিশু খাদ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মহান সৃষ্টিকর্তা মানব দেহ থেকে সন্তানের জন্য শুধুমাত্র একটি খাদ্য আহরণের ব্যবস্থা রেখেছেন, আর সেটি হচ্ছে মায়ের বুকের দুধ। শিশুর সুস্বাস্থ্য, পুষ্টি ও বেঁচে থাকার জন্য তিনটি নির্ধারক আছে। এগুলো হলো: নিরাপত্তা, যতœ ও রোগ নিয়ন্ত্রণ। এই তিনটির সমন্বয়ের এক উৎকৃষ্ট উদাহরণই হল মায়ের বুকের দুধ।
মানব সন্তান পৃথিবীতে আসার সাথে সাথেই আল্লাহতাআলার রহমতে প্রতিটি মায়ের বুকে তার অনাগত সন্তানের জন্য খাদ্য প্রস্তুত হতে থাকে। জন্মের সাথে সাথে শিশুকে বুকে দিলেই শিশু তার ক্ষুধা, তৃষ্ণা মিটানোর সুধা পেয়ে যায়। প্রথমত তিন/চারদিন শিশু তার মায়ের বুকের দুধ থেকে যে দুধ পায় তা শালদুধ। শালদুধ পরিমানে কম। কিন্তু জন্মের পরপর শিশুর অপরিপক্ক পাকস্থলির সীমিত ধারণ ক্ষমতার জন্য যথেষ্ট। এই শালদুধ যে শুধু শিশুর ক্ষুধা ও তৃষ্ণা মিটায় তা নয়, শিশুকে সুস্থ রাখার জন্য বিভিন্ন উপাদান সরবরাহ করে। যে কারণে শালদুধকে বলা হয় জীবনের প্রথম টিকা।
মায়ের দুধ পানে শুধুমাত্র শিশুরাই উপকৃত হয় না বরং মায়েরা, তাদের পরিবার এবং সামগ্রীকভাবে সমাজও উপকৃত হয়। মায়ের দুধ শিশুর জীবন ধারনের প্রথম ৬মাসে শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় পুষ্টিই সরবরাহ করে না বরং ৫টি বিভিন্ন রোগের প্রতিরোধক হিসেবেও কাজ করে। শৈশবে মায়ের বুকের দুধ খাওয়ার ফলে পরবর্তী জীবনে সেই শিশু বিভিন্ন রোগ থেকে মুক্ত থাকে।
শিশুর শারীরিক গঠন ও শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষায় মায়ের বুকের দুধ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। শুধু মায়ের বুকের দুধ পান করলে শিশুরা পায় সঠিক পুষ্টি পায় সুস্থ বাড়ন আর মগজের বিকাশের জন্য সব ধরণের পুষ্টি উপকরণ। শিশুরা পায় শ্রেষ্ঠ সুরক্ষা। শ্বাসনালি সংক্রমণ, ডায়রিয়া ও অন্যান্য জীবনঘাতী রোগ থেকে রক্ষা পায়। শিশুরা সুরক্ষা পায় স্থুলত থেকে, অসংক্রামক রোগ যেমনঃ হাপানি ও ডায়াবেটিস থেকেও পায় সুরক্ষা। মায়ের বুকের দুধ শিশুর জন্য প্রতিষেধক। এছাড়া খাদ্য উপাদানে শিশুর বুদ্ধিদীপ্ততা ও চোখের তীক্ষèতা বাড়ায়। শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোর ফলে ওই মায়ের অল্প সময়ের মধ্যে গর্ভধারণ ঝুঁকি কম থাকে।
সমাজের সবচেয়ে দরিদ্র গোষ্ঠির শিশুদের মধ্যে অপুষ্টি অনেক বেশি। জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের ২০১৯ সালে প্রকাশিত বৈশ্বিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, বাংলাদেশের সবচেয়ে দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেয়া ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের ৪৯ শতাংশ খর্বকার। অর্থাৎ এদের উচ্চতা বয়সের তুলনায় কম। আবার দেশে ৫ বছরের কম বয়সী শিশুর সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৪৭ লাখ। এদের মধ্যে প্রায় ১ লাখ শিশু স্থুলকার। এদের ওজন বয়সের তুলনায় অনেক বেশি। প্রতিবেদনে খাদ্য ও পুষ্টির ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে শিশু মৃত্যুর হার কমেছে। ১৯৯০ সালে ৫ বছরের কম বয়সী শিশু মৃত্যুর হার ছিল ১৪৪ জন। অর্থাৎ ১ হাজার শিশুর জন্ম নিলে ৫ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই ১৪৪ জন শিশু মারা যেত। ২০১৮ সালে এই হার কমে ৩০ জন-এ দাঁড়িয়েছে। ২০১৮ সালে এই বয়সী প্রায় ৮৯ হাজার শিশুর মৃত্যু হয়েছিল। এর মধ্যে ৫০ হাজার ছিল নবজাতক শিশু। অর্থাৎ জন্মের পর ২৮ দিন পূর্ণ হওয়ার আগেই ৫০ হাজার শিশুর মৃত্যু হচ্ছে। নবজাতক মৃত্যুর হার প্রতি হাজারে ১৭ জন।
দেশের মানুষের পুষ্টি ও খাদ্য নিয়ে জ্ঞানের অভাবই মুলত দায়ী, অর্থনৈতিক কারণ নয়। অনেকেরই ধারণা বেশি বেশি দুধ ও মাংস খেলে স্বাস্থ্য ভাল হয়। কিন্তু ধারণাটি ঠিক নয়। প্রতিটি মানুষেরই সুষম খাবার অর্থাৎ খাদ্যের সব কয়টি উপাদানের উপস্থিতি খাবারে থাকতে হবে, এমন সব খাবার খাওয়া উচিত। সে জন্য মাংস ও দুধের পাশাপাশি মাছ, ডিম, ডাল, ভাত, রুটি, সবজি, ফলমুল সবই খেতে হবে। এছাড়া বিশেষ কোন একটি খাবার বেশি বেশি খাওয়া ভাল নয়। কিশোরী মায়েদের মাতৃত্ব সম্পর্কে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা না থাকার ফলে তার গর্ভধারণ হলে শিশুটির অপুষ্টি হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে বলে অনেকে মনে করেন।
সার্বিকভাবে দেশের নবজাতক শিশু ও কিশোর কিশোরীদের অপুষ্টি দূর করতে ব্যাপক উদ্যোগ এখন থেকেই গ্রহণ করা প্রয়োজন। শিশুদের মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানো, উপযুক্ত সম্পুরক খাবার খাওয়ানো, ৬ মাস অন্তর অন্তর ভিটামিন ‘এ’ খাওয়ানো-এই কার্যক্রম বাড়াতে হবে। শিশু বয়স থেকেই এটা করতে হবে। তাহলে শিশুরা অপুষ্টির হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে। কিশোর বয়সে অপুষ্টির শিকার কম হবে। ভাতের পাশাপাশি পর্যাপ্ত পরিমাণে ডাল, শাকসব্জি, দেশিয় ফলের চাষ বাড়াতে হবে। সমাজ থেকে অপুষ্টি দূরীকরণ কার্যক্রমে অংশগ্রহণের জন্য সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, এনজিওসহ সমাজের সকল স্তরের জনগণকে এগিয়ে আসতে হবে। তবেই এদেশের হাজারো নবজাতক শিশুর মৃত্যু ও শিশুর অপুষ্টির হাত থেকে রক্ষা করা যাবে।

এবিএনওয়ার্ল্ড/এফআর

চেক করুন

ঢাকা মহানগরীর ৭৩টি বস্তিতে ওএমএস’র চাল বিক্রি হচ্ছে

ঢাকা মহানগরীর ৭৩টি বস্তিতে ওএমএস’র চাল বিক্রি হচ্ছে

ঢাকা মহানগরীর ৭৩টি বস্তির ৩৯ হাজার ১৮০টি পরিবারের মধ্যে ১০টাকা কেজি দরে বিশেষ ওএমএস’র ৫ …

আরও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে করোনা : মৃতের সংখ্যা ৮২ হাজার ছাড়িয়েছে

আরও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে করোনা : মৃতের সংখ্যা ৮২ হাজার ছাড়িয়েছে

বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস মহামারী আরও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। প্রতিদিনই হু হু করে বাড়ছে …