শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা : ১০ জনের মৃত্যুদণ্ড হাইকোর্টেও বহাল – ABNWorld
ঢাকা । মঙ্গলবার, ২ মার্চ, ২০২১, ১৭ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১৮ই রজব, ১৪৪২ হিজরি
হোম / আদালত / শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা : ১০ জনের মৃত্যুদণ্ড হাইকোর্টেও বহাল

শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা : ১০ জনের মৃত্যুদণ্ড হাইকোর্টেও বহাল

শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা : ১০ জনের মৃত্যুদণ্ড হাইকোর্টেও বহাল

২০০০ সালের ২০ জুলাই গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় ৭৬ কেজি ওজনের একটি বোমা পেতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টার মামলায় বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ১০ আসামির সবার সাজা বহাল রেখে রায় দিয়েছে হাইকোর্ট। আজ বুধবার আসামিদের ডেথ রেফারেন্স গ্রহণ এবং আসামিদের আপিল খারিজ করে এই রায় দিয়েছে বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি মো. বদরুজ্জামানের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ। ঐতিহাসিক এই রায়টি ঘোষণা করা হয়েছে বাংলায়। প্রসঙ্গত ২০১৭ সালের ২০ অগাস্ট ট্রাইব্যুনালের বিচারক মমতাজ বেগম ১০ জঙ্গির প্রাণদণ্ড দেন। গুলি করে প্রত্যেকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আদেশ দেন বিচারক। এছাড়া আসামি আনিসুল ওরফে আনিস, মো. মহিবুল্লাহ ওরফে মফিজুর রহমান এবং সরোয়ার হোসেন মিয়াকে ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও এক বছরের দণ্ড দেয়া হয়।
বিচারিক আদালতের রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- ওয়াশিম আখতার ওরফে তারেক হোসেন, মো. রাশেদ ড্রাইভার ওরফে আবুল কালাম, মো. ইউসুফ ওরফে আবু মুসা হারুন, শেখ ফরিদ ওরফে মাওলানা শওকত ওসমান, হাফেজ জাহাঙ্গীর আলম বদর, মাওলানা আবু বক্কর, হাফেজ মাওলানা ইয়াহিয়া, মুফতি শফিকুর রহমান, মুফতি আবদুল হাই এবং মাওলানা আবদুর রউফ ওরফে আবু ওমর।
এর আগে বিচারিক আদালতের রায়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়া ১০ আসামির ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি গত ১ ফেব্রুয়ারি শেষ হয়। পরে বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি মো. বদরুজ্জামানের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করে দেয়। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন এটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন, ডেপুটি এটর্নি জেনারেল মো. বশির উল্লাহ। এছাড়া সহকারী এটর্নি জেনারেল মিজানুর রহমান খান শাহিন, মোহাম্মদ শাহিন আহমেদ, মো. সাফায়েত জামিল, মো. আশিকুজ্জামান বাবু, সাদিয়া সুলতানা রত্নাও শুনানিতে অংশ নেন।
আসামিপক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এস এম শাহজাহান, মোহাম্মদ আহসান, মো. নাসিরউদ্দিন। এছাড়া পলাতক আসামির পক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী ছিলেন আমূল্য কুমার সরকার।
২০১৮ সালের ২ এপ্রিল এ মামলার ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ডের রায়ের অনুমোদন) ও আপিলের উপর শুনানি শুরু হয়েছিল। হরকাতুল জিহাদের শীর্ষনেতা মুফতি আবদুল হান্নান এই মামলায় মূল আসামি ছিলেন। অন্য মামলায় তার ফাঁসি কার্যকর হওয়ায় তার নাম মামলা থেকে বাদ দেয়া হয়। রায়ের দিন ঘোষণার পর এটর্নি জেনারেল সাংবাদিকদের বলেন, রমনা বটমূলে বোমা হামলার ঘটনায় ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছিলেন মুফতি হান্নান। সে জবানবন্দিতে তিনি কোটালীপাড়ায় বোমা পুঁতে রাখা এবং কী ধরনের ষড়যন্ত্র হয়েছিল, তার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন।
২০০০ সালের ২০ জুলাই কোটালীপাড়ায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমাবেশস্থলের পাশে ৭৬ কেজি ওজনের বোমা পুঁতে রাখা হয়। শেখ লুৎফর রহমান মহাবিদ্যালয়ের উত্তর পাশের একটি চায়ের দোকানের পেছনে এ বোমা বিস্ফোরণের মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এই ঘটনায় কোটালীপাড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নূর হোসেন মামলা দায়ের করেন। ২০০১ সালের ৮ এপ্রিল ১৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়া হয়।
পরবর্তীকালে ২০০৯ সালের ২৯ জুন আরও নয়জনকে আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে সম্পূরক অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। এরপর ২০১০ সালে মামলাটি নিষ্পত্তির জন্য ঢাকা-২ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইবুনালে পাঠানো হয়।
রায়ের ৪ দিনের মাথায় মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য এ মামলার রায়সহ সব নথি হাই কোর্টে পাঠানো হয়; যা ডেথ রেফারেন্স হিসেবে পরিচিত। এরপর প্রধান বিচারপতির কাছে নথি উপস্থাপন করা হলে তিনি জরুরিভিত্তিতে পেপারবুক তৈরির নির্দেশ দেন।

এবিএনওয়ার্ল্ড/আকরাম

চেক করুন

করোনা টিকার প্রথম ডোজ নিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি

করোনা টিকার প্রথম ডোজ নিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ মোদি করোনাভাইরাসের টিকার প্রথম ডোজ গ্রহণ করেছেন। স্থানীয় সময় সোমবার সকালে দিল্লির …

কার্টুনিস্ট কিশোরের জামিন বিষয়ে শুনানি ৩ মার্চ

কার্টুনিস্ট কিশোরের জামিন বিষয়ে শুনানি ৩ মার্চ

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে আনা মামলায় কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোরের জামিন আবেদনের শুনানি হবে আগামী ৩ …